ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ২৯ অক্টোবরের এই ভোটযুদ্ধে প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা, তবে মূল লড়াই জমে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে। এই আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে এখন সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা। মোট ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন ভোটারের এই আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। অতীতে যা আওয়ামী লীগের ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত ছিল, তা এখন বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের লক্ষ্যবস্তু। দক্ষিণ বঠিনা ও ফাড়াবাড়ির মতো হিন্দু-অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে আগের নির্বাচনে ধানের শীষ বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকলেও, এবার জামায়াত চায় সেই ভোটে ভাগ বসাতে। ফলে দিন-রাত দুই দলের নেতাকর্মীদের যাতায়াত বাড়ায় এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপে রয়েছেন স্থানীয় সংখ্যালঘু ভোটাররা। ভোটারদের আস্থায় নিতে প্রার্থীরা দিচ্ছেন সম্প্রীতির নানা প্রতিশ্রুতি। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন শৈশবের স্মৃতি টেনে তুলে বলেন, আমাদের বাড়ির জবা ফুলে আপনাদের পূজা হয়, আবার আপনাদের তুলসীগাছের পাতায় আমাদের অসুখ সারে। আরও পড়ুন,নির্বাচনে ধর্ম ব্যবহারের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে: গোলাম পরওয়ারআমার শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে কখনোই আপনাদের ক্ষতি হতে দেব না।” অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বিগত দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আশ্বাস দেন, “২০২৪ সালের আগস্টে হামলার সময় আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম। নির্বাচিত হলে প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করব। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের স্থানীয় নেতারা জানান, নির্বাচন এলেই সংখ্যালঘুদের মাঝে যে শঙ্কা তৈরি হয়, তা নিরসনে ভোটপরবর্তী নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। এ বিষয়ে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম স্পষ্ট আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ভোটের পরও এলাকায় সক্রিয় থাকবে। সব মিলিয়ে, আস্থার সংকট কাটিয়ে এই বিশাল ভোটব্যাংক কার বাক্সে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের চূড়ান্ত সমীকরণ।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।