তীব্র গরম আর বজ্রঝড়ে থমকে যেতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপ
উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম ও গ্রীষ্মকালীন বজ্রঝড় ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সূচি ও ম্যাচ পরিচালনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে— এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া এখন বড় বাস্তবতা, যা বিশ্বকাপের মতো মেগা আয়োজনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, বজ্রপাতের ক্ষেত্রে ফিফার নিজস্ব কোনো আলাদা নিয়ম নেই। আয়োজক দেশগুলোর স্থানীয় নিরাপত্তা নীতিই অনুসরণ করতে হবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ১৩ কিলোমিটার বা ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই ম্যাচ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বিশ্বকাপের সূচি বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার মুখে পড়তে পারে। কারণ গ্রুপপর্বের আরো পড়ুন , ৪৫ বলেই সেঞ্চুরি , বাংলাদেশের দ্রুততম শতকের নতুন রাজা সোহানশেষ ম্যাচ কিংবা নকআউট পর্বে একই সময়ে একাধিক ম্যাচ আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকে। একটি ম্যাচ ঝড় বা বজ্রপাতের কারণে বন্ধ হলে পুরো সময়সূচিই এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের একটি ম্যাচ বজ্রপাতের কারণে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার নজিরও রয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে খেলা শেষ না হলে তা পরবর্তী দিনে পুনরায় শুরু করা হবে এবং ঠিক যে মিনিটে খেলা বন্ধ হয়েছিল, সেখান থেকেই আবার শুরু হবে ম্যাচ।বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, মায়ামি, নিউ জার্সি, মেক্সিকো সিটি ও মনটেইরে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও কয়েকটি স্টেডিয়ামে ছাদ থাকায় ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯৪ সালের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় উত্তর আমেরিকায় এখন আরও ঘন ঘন বজ্রঝড় হচ্ছে। ফলে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তায় ‘মেঘ ডাকলেই খেলা বন্ধ’ নীতি বিশ্বকাপের মাঠে বড় বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।