মনিরামপুরের সন্তান আলীম এখন জাতিসংঘের ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’
প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মনিরামপুরের সন্তান ড. আব্দুল আলীম। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার লাউড়ী গ্রামের প্রয়াত হোমিও চিকিৎসক ডা. আব্দুল করিম ও আমেনা বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে পঞ্চম আলীমের এ অর্জনে গর্বিত পরিবার ও এলাকাবাসী।শৈশব থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখা আলীম অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় বৃহত্তর যশোর জেলায় প্রথম হন। পরে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পরীক্ষায় বোর্ড স্ট্যান্ড করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১৮তম বিসিএসে সব ক্যাডারের মধ্যে প্রথম হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। কমনওয়েলথ বৃত্তিতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের মিশনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তঃসরকারি সহায়তা ও সমন্বয় কার্যালয়ের ডেপুটি চিফ এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) উপ-কর্মসূচির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশসহ এলডিসিভুক্ত ৩৩টি দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করেছেন তিনি। বাংলা, ইংরেজি ও আরবির পাশাপাশি উর্দু, হিন্দি ও ফরাসি ভাষায়ও তাঁর দক্ষতা রয়েছে।আলীমের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আলীম ছিল শান্ত, বিনয়ী ও অসম্ভব মেধাবী। আমরা ভাই হিসেবে তার সাফল্যে আনন্দিত,আরও পড়ুন, স্কুলে রাজনৈতিক উত্তাপ, প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কিন্তু তার চেয়েও বেশি গর্বিত—আমাদের গ্রামের একটি ছেলে আজ দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে কাজ করছে। বাবা-মা বেঁচে থাকলে এই দিনটি তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের হতো।”স্থানীয় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আহমেদ শফি বলেন, “আব্দুল আলীমের সাফল্য শুধু একটি পরিবারের অর্জন নয়, এটি মনিরামপুরের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। মেধা, সততা ও অধ্যবসায় থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও বিশ্বপরিসরে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব—আলীম তার বাস্তব উদাহরণ।”মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন দুষ্টু বলেন, “মনিরামপুরবাসীর জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের সংবাদ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে একজন মনিরামপুরের সন্তান—এ অর্জন আমাদের এলাকার পরিচিতিকে আরও উজ্জ্বল করেছে। তাঁর সাফল্য নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করবে।”বর্তমানে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করছেন ড. আব্দুল আলীম। তাঁর বড় ছেলে সামিদ আলীম বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন, ছোট ছেলে আরাদ আলীম নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ এবং মেয়ে আব্রিয়ানা আলীম নিউইয়র্কের একটি স্কুলে পড়ছেন। তাঁর স্ত্রীও শিক্ষকতা করছেন।মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মুহিব বুল্লাহ বলেন,লাউড়ীর প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চ—ড. আব্দুল আলীমের এই পথচলা তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি মনিরামপুরের মানুষের জন্য গর্ব, আর নতুন প্রজন্মের জন্য স্বপ্ন দেখার সাহস।