নবীনগরে দুই বাহিনীর দন্ধ, ফাঁকা গুলি, জনমনে আতঙ্ক
কুখ্যাত ডাকাত মনেক বাহিনীর সদস্য উজ্জ্বল মিয়াকে লাঞ্ছিত করার জেরে নবীনগরের শ্রীঘর বাজারে ফাঁকা গুলি করেছে ডাকাতদল। মঙ্গলবার (২ জুন) আনুমানিক রাত ৯টার দিকে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানায় এলাকাবাসী।এ বিষয়ে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক জানান, নবীনগর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত দুই ডজনেরও বেশি মামলার আসামি ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মনেক ডাকাত। যার একটি বাহিনীও রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করলেও সে বারবারই জেল থেকে জামিনে বের হয়ে এসে এলাকায় প্রতিবারই নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।আরও পড়ুন , বর্ষা আসার আগেই কদমের হাসি, প্রকৃতির আগাম বার্তাতিনি বলেন, ‘সেই মনেক বাহিনীর সদস্য উজ্জ্বল মিয়াকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বড়িকান্দি ইউনিয়নের শ্রীঘর বাজারে আটক করে লাঞ্ছিত করে পার্শ্ববর্তী সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড্ডা নয়াচরের আলোচিত ইলিয়াছ বাহিনীর লোকজন। এ ঘটনা মনেক বাহিনী জানতে পেরে মনেক ডাকাতের সশস্ত্র লোকজন মঙ্গলবার আনুমানিক রাত ৯টার দিকে শ্রীঘর বাজারে এসে ফাঁকা গুলি করে ত্রাস সৃষ্টি করে নিজেদের শীর্ষত্ব জানান দিয়ে যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এতে কেউ হতাহত হয়নি বা কোনো সম্পদেরও ক্ষতি হয়নি। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেই মনেক ডাকাত বাহিনী এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।তবে এ খবরটি ফেসবুকে অতিরঞ্জিতভাবে ভাইরাল হয়েছে। পরে আমরা লোকমুখেও ঘটনাটি জানতে পেরে নবীনগর থানার ওসি ও একদল পুলিশ নিয়ে আমি ওই এলাকায় দ্রুত ছুটে যাই। সারা রাত অভিযান চালিয়েও মনেক কিংবা ইলিয়াস বাহিনীর কাউকেই আমরা খুঁজে পাইনি। তবে এখন থেকে প্রতি রাতেই ওই এলাকায় পুলিশি অভিযান চলবে।’আরও পড়ুন, হত্যা মামলার জেরে অগ্নিসংযোগ, পুড়ে ছাই আসামিপক্ষের বসতঘরএদিকে শ্রীঘর বাজারের নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় মনেক ডাকাত বাহিনীর সদস্য উজ্জ্বল আটকের পরই আমরা ভেবেছিলাম, বাজারে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।পরে এশার আজানের কিছুক্ষণ পরই বাজারটিতে এমন আতঙ্কিত গোলাগুলির ঘটনা ঘটল।’ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা প্রচণ্ড আওয়াজে গুলি ছুড়তে ছুড়তে যখন শ্রীঘর বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঢুকছিল, তখন বাজারের সব দোকানপাট নিমিষেই বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় আমাদের মতো প্রায় সব দোকান মালিকেরাই দোকানের শাটার বন্ধ করে ভেতরে চরম আতঙ্কে সময় কাটাতে থাকি। তবে কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ শেষে চলে গেলে, আমরা দ্রুত সব দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাই।’নবীনগর থানার ওসি মোর্শেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল সারা রাত সার্কেল স্যারসহ আমরা (পুলিশ) এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালিয়েছি। অপরাধীদের যেকোনো মূল্যে ধরতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।