দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

পর্যটকের নিরাপত্তাই ট্যুরিস্ট পুলিশের মূল দায়িত্ব: আপেল মাহমুদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও পর্যটন এলাকায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত ট্যুরিস্ট পুলিশের এমনটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন কক্সবাজারের ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তিনি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব অন্যান্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। আমাদের দায়িত্ব স্পষ্ট পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা অবৈধ দখলদারিত্ব সহ্য না করা।সম্প্রতি কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা নির্বাচন হোক বা অন্য যেকোনো সময়, পর্যটন এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস নয়। অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। সে কারণে নির্বাচনকালীন সময়েও ট্যুরিস্ট পুলিশ শতভাগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরও বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্ব নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হওয়া নয়, বরং পর্যটন এলাকায় যেন কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা, মিছিল বা বিশৃঙ্খলার প্রভাব না পড়ে সেটি নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, বান্দরবান, রাঙামাটি ও অন্যান্য পর্যটন এলাকাগুলোতে বাড়তি টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশের অবস্থান এবার কঠোর। তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারে কোনো অবৈধ দখলদার, কোনো চাঁদাবাজ বা সিন্ডিকেটের জন্য একচুল ছাড় নেই। তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আইন সবার জন্য সমান। তার ভাষায়, পর্যটন এলাকায় ভয় বা হয়রানির শিকার হলে পর্যটকরা আর এখানে আসতে চাইবেন না। তাই হোটেল-মোটেল, সৈকত এলাকা, পরিবহন, গাইড ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম নিয়মের আওতায় আনা হচ্ছে। অবৈধভাবে দখল করা সৈকত এলাকা, ফুটপাত কিংবা পর্যটন স্পট উদ্ধারেও ট্যুরিস্ট পুলিশ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে।অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশ এখন কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, বরং একটি পর্যটকবান্ধব সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠছে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যদের জন্য বিশেষ আচরণগত প্রশিক্ষণ, বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভাষাগত প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা হয়েছে। কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য হটলাইন, দ্রুত রেসপন্স টিম এবং মোবাইল পেট্রোল ইউনিট ইতোমধ্যে সক্রিয় রয়েছে। ইদানীং বিভিন্ন গণমাধ্যমে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্ব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। একজন কঠোর কিন্তু মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি, হঠাৎ অভিযান এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাকে আলাদা করে তুলেছে। পুলিশ বাহিনীর একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমন পেশাদার ও ভিশনারি অফিসার বর্তমানে বাহিনীতে খুব বেশি দেখা যায় না। তিনি শুধু নির্দেশ দেন না, নিজে মাঠে নেমে কাজ করেন।পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও আপেল মাহমুদের ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, আগে কিছু দুষ্টচক্র পর্যটকদের জিম্মি করে রাখত। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি আমাদের ব্যবসায় আস্থা ফিরিয়েছে। তিনি আরো জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকলে এই নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ আরো স্পষ্ট করেন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় ট্যুরিস্ট পুলিশের কোনো সরাসরি ভূমিকা নেই। তবে নির্বাচনকালীন সময় যেন পর্যটন এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। তবে আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে এবং পর্যটন খাতও সুরক্ষিত থাকবে।আরও পড়ুন, আপনারা সুযোগ দিলে আমি আমার পিতার মতই এলাকার উন্নয়ন করতে চায়: রনিভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্মার্ট পুলিশিং এবং পর্যটকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ট্যুরিস্ট পুলিশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। পর্যটন এলাকা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি দেশের সম্পদ। এখানে অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যখন দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে ট্যুরিস্ট পুলিশের এই স্পষ্ট অবস্থান স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের দৃঢ় নেতৃত্ব, পেশাদার মনোভাব ও জিরো টলারেন্স নীতি কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।এবিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের মোঃ মাইনুল হাসান, পিপিএম, এনডিসি অতিরিক্ত আইজি বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ দেশের পর্যটন খাতকে নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পর্যটকবান্ধব রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া হলেও পর্যটন এলাকায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ট্যুরিস্ট পুলিশের মূল দায়িত্ব। নির্বাচনকালীন সময়েও পর্যটন এলাকাগুলোতে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। এই কার্যক্রমে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি একজন দক্ষ, সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি করছেন এবং পর্যটন এলাকায় অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব হয়েছে। পর্যটন এলাকায় কোনো অপরাধী বা সিন্ডিকেটকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান এ নীতিতে আমরা বিশ্বাসী। স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ পর্যটন পরিবেশ গড়ে তুলতে ট্যুরিস্ট পুলিশ বদ্ধপরিকর। তবে নির্বাচন চলাকালীন সকল বাহিনী একসাথে কাজ করবে। ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বদা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পর্যটন পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। 

পর্যটকের নিরাপত্তাই ট্যুরিস্ট পুলিশের মূল দায়িত্ব: আপেল মাহমুদ