লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের হারের পর একসঙ্গে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর থেকেই জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থার তদন্তের মুখে রয়েছেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান।তদন্তে সংস্থাটির পাঠানো নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রিজওয়ান। তবে আদালত তার আবেদন খারিজ করে তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।এরপর চলমান তদন্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি চেয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে দুবার আবেদন করেন রিজওয়ান। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুইবারই তাকে অনুমতি দেয়নি পিসিবি।সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রিজওয়ান নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে লেখা চিঠি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানাতে চেয়েছিলেন তিনি।পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার আগে খেলোয়াড়কে বোর্ডের অনুমতি নিতে হয়। রিজওয়ান সেই নিয়ম মেনেই অনুমতি চেয়েছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে।এর মধ্যে লর্ডস টেস্টের পর রিজওয়ানের মোবাইল ফোন জব্দের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। লাহোর হাইকোর্টের শুনানিতে তার আইনজীবী কাজী উমাইর আলী দাবি করেন, আরও পড়ুন, এশিয়ান গেমসে পদক ছাড়াই ফিরছে বাংলাদেশের মেয়েরাটেস্টের পর একটি হোটেলের লবিতে রিজওয়ানকে ডেকে নিয়ে কোনো নোটিশ ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোন ফেরত দেওয়ার কথা বলে সেটি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে আদালতে জানানো হয়।ফোন জব্দের বিষয়টি নিয়ে রিজওয়ান আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কাছেও পরামর্শ চেয়েছেন বলে আগে জিও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফোন জব্দ ও ফরেনসিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না সে বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন।এনসিসিআইএ-র তদন্তের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটে অনলাইন বাজি ও জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে দলের ড্রেসিংরুম থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগের যোগসূত্র থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।চলতি মাসের শুরুতে লাহোরে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সামনে হাজিরা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক। তবে এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।ফলে রিজওয়ানকে ঘিরে তদন্ত ও মোবাইল ফোন জব্দের বিষয়টি নিয়ে আইনি ও ক্রিকেটীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।