কালকিনিতে জুলাই দিবস পালন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান
মাদারীপুরের কালকিনিতে 'জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬' উপলক্ষে এক আবেগঘন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালকিনি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “জুলাই নিয়ে কখনও কোনো বিতর্ক করা যাবে না।”কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফীনের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার সুদীপ বিশ্বাস, নির্বাচন অফিসার নিহার রায়, সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার শেখ আসাদুজ্জামান এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ম্যানেজার মাসুম হোসাইন।আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে শহিদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের স্বজন হারানোর বেদনাময় স্মৃতিচারণ করেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মাদারীপুরের শহিদ শিফাতের বাবা কামাল বেপারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনার বাহিনী আমার ছেলের বুক ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর হতে পারে না।” তাঁর এই বক্তব্যে সভাকক্ষে উপস্থিত সকলের চোখ ভিজে ওঠে।অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনের ভূমিকা এবং বিগত সরকারের আমলে গুম থাকাকালীন তাঁর ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দীর্ঘদিন গুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার সেই নির্মম দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।আরও পড়ুন, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা - আটক ৩প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন আরও বলেন, “আমি গুম হয়েছিলাম, নির্যাতন সহ্য করেছি। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ফিরে এসেছি। আমার সন্তানরা আজ আমাকে দেখতে পায়। কিন্তু যারা গুম হয়ে আর ফিরে আসেননি, তাদের পরিবারের ত্যাগ ও কষ্ট অনেক বড়। আমরা সেই আত্মত্যাগ কখনো ভুলতে পারি না।”তিনি আরও বলেন, “১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে বুক পেতে বুলেট গ্রহণ করেছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সেই বীর শহিদদের আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন নতুন শক্তি পেয়েছে।” বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাই আমি মনে করি, তিনি নির্যাতিত মানুষের প্রতিনিধি এবং নির্যাতিত মানুষের অভিভাবক।”অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মুন্সি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বেপারী, বিআরডিপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বেপারী, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিকদার মামুন, শ্রমিক দল নেতা মোশারফ হোসেন, উপজেলা যুবদল নেতা শামীম মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বেপারী এবং যুবদল নেতা আল আমিন মোল্লাসহ ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সুধীজন।