ঢাকার আশেপাশে ঘুরে দেখার জন্য ৪ টি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান
পানাম নগর: ঢাকার পাশে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ঐতিহাসিক পানাম নগর। পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর। পানাম সিটি ঢাকা শহর থেকে একদম আলাদা এবং অন্যরকম। এখানে কয়েক শতাব্দীর পুরোনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। পানাম নগরের কাছেই আছে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর। একদিনে দুটি জায়গা সহজেই ঘুরে দেখা যায়। এছাড়া পানাম নগরের কাছেই মেঘনা নদী। নদীর ওপারে গেলেই দেখা পাওয়া যায় কাশফুলে ঘেরা বিস্তৃত মাঠের।সোনারগাঁওয়ে প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ঐতিহাসিক পানাম নগরযোগাযোগ: রাজধানীর গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ কিংবা বোরাকের এসি বাসে করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামতে হবে। মোগড়াপাড়া থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পানাম নগরীতে যাওয়া যায়।নুহাশ পল্লী: ঢাকার আশেপাশে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে নুহাশ পল্লী অন্যতম। বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের নিজের হাতের স্পর্শে গড়া এই পল্লী বাগান বাড়ি। এখানে যেতে পারেন আপনার প্রিয়জন, পরিবার সবাইকে নিয়ে। একদিনের মধ্যে ঘুরে আসতে পারেন নুহাশ পল্লী থেকে। এখানে আছে বৃষ্টি বিলাস, ভুত বিলাস নামের বাড়ি, ট্রি হাউজ, বিভিন্ন ভাস্কর্য, প্রায় ৩০০ প্রজাতির বিভিন্ন গাছের বাগান। পদ্ম পুকুর, মৎস্য কন্যা, প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের অনুকীর্তিও দেখতে পাবেন।কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের নিজের হাতের স্পর্শে গড়া নুহাশ পল্লী আরও পড়ুন, নতুন জীবনের শুরুতে স্বাস্থ্য ও সতেজতার জন্য ডিটক্স পানীয়যোগাযোগ: ঢাকা থেকে বাসে করে প্রথমে গাজীপুরের হোতাপাড়া নামক বাস স্ট্যান্ড নামতে হবে। এখানে নেমে রিকশা বা সিএনজিতে নুহাশ পল্লী অনায়াসে যাওয়া যায়। গাজীপুর জেলার চৌরাস্তা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এক হোতাপাড়া বাজারের পিরুজালী নামক গ্রামে এই নুহাশ পল্লী অবস্থিত।মৈনট ঘাট, দোহার: ঢাকার আশপাশে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অল্প সময়ের মধ্যে মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট থেকে খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। ঢাকার অদূরে দোহার উপজেলায় অবস্থিত এই জায়গা আপনাকে সাগরের কথা মনে করিয়ে দেবে। মৈনট ঘাটকে মিনি কক্সবাজার নামে ডাকা হয়ে থাকে। এ ঘাটে সূর্যাস্তের সুন্দর দৃশ্য আপনার ভাল লাগবে। ঘাটের সঙ্গে বিশাল চরে সমুদ্রের বেলাভূমির স্বাদ নিতে পারেন। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় এই জায়গাটা ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এছাড়াও পদ্মার ইলিশ কিংবা নৌকায় ঘুরার ইচ্ছা থাকলে ঘুরতে পারবেন। এই ঘাটে কাটিয়ে যেতে পারেন একটি সুন্দর বিকেল।মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাটযোগাযোগ: গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে বাসে করে সরাসরি দোহারের মৈনট ঘাটে যাওয়া যায়।জিন্দা পার্ক: কম সময়ে ও কম খরচে সবুজের মাঝে হারাতে চাইলে যেতে পারেন পূর্বাচল হাইওয়ের কাছেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জিন্দা পার্কে। ঢাকা থেকে দূরত্ব মাত্র ৩৭ কিলোমিটার। খাওয়া-দাওয়ার জন্য পার্কের ভেতরেই রেস্টুরেন্ট আছে। এছাড়া রাতে থাকার জন্যও আছে গেস্টহাউস। নারায়ণগঞ্জ জেলার দাউদপুর ইউনিয়নে ১৫০ একর জায়গা নিয়ে এই জিন্দা পার্কটি গড়ে উঠেছে। পার্কটিতে রয়েছে ২৫০ প্রজাতির দশ হাজারের বেশি গাছ, ৫টি জলাধার ও অসংখ্য পাখি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ক্যান্টিন, লাইব্রেরি, চিড়িয়াখানা। রয়েছে ৮টি সুসজ্জিত নৌবহর।রূপগঞ্জে অবস্থিত জিন্দা পার্কআরও পড়ুন, ঘরে তৈরি মজাদার দুধপুলিযোগাযোগ: ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড এসে ৩০০ ফিট রাস্তার প্রান্ত থেকে লোকাল সিএনজি বা লেগুনা দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ আসুন। কাঞ্চন ব্রিজের আগে বাইপাসের মোড় থেকে অটোরিকশায় জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়। এছাড়া চাইলে কুড়িল ৩০০ ফিট রাস্তা থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা রিজার্ভ নিয়ে সরাসরি জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়।