‘নির্মাণকাজের’ আড়ালে সাইবার প্রতারণা, কক্সবাজারে চীনা চক্রের গোপন ল্যাব
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পর্যটন রিসোর্টকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রতারণার একটি বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করার পরিকল্পনা করেছিল চীনা নাগরিকদের একটি চক্র।পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার কয়েকটি রিসোর্টে অবস্থান করছিল দুই শতাধিক চীনা নাগরিক। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল অত্যাধুনিক ডিজিটাল ল্যাব। এসব ল্যাবে বিপুলসংখ্যক আইফোন, কম্পিউটার, মনিটর ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছিল।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৯৪ জন চীনা নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। আরও প্রায় ২৯৫ জন চীনা নাগরিকের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে এসব পাসপোর্ট ব্লক করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হতো বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ ও লাভজনক বিনিয়োগের বার্তা। শুরুতে সামান্য মুনাফা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীর আস্থা অর্জনের পর তাদের বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করার পরিকল্পনা ছিল।আরও পড়ুন, বুধবার ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার, আধা ঘণ্টায় লেনদেন ৮২ কোটি টাকাপুলিশের দাবি, চক্রটি তাদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার আগেই তাদের আস্তানায় অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। প্রায় ১০ দিন ধরে গোপনে নজরদারির পর রিসোর্টে অভিযান চালায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ।দুই দফা অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি কম্পিউটার, ৩০টি কি-বোর্ড, দুটি ল্যাপটপ, ৪০টি মাউসসহ বিপুল ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম। গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচ চীনা নাগরিককে।পুলিশ আরও জানিয়েছে, চক্রটির নেটওয়ার্ক শুধু কক্সবাজারের রিসোর্টকেন্দ্রিক ছিল না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের যোগাযোগ ও অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের একটি কাঠামো তৈরির অভিযোগও তদন্তে এসেছে।এদিকে চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থানের কারণ নিয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশের অনুসন্ধানে কয়েকজন নিজেদের নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট নামে কোম্পানির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ঘটনার পর চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট পরিদর্শন করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।