ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট, জরুরি সেবায় রোগীদের ভোগান্তি
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগী ও তাদের স্বজনদের বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে এনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গজ, ব্যান্ডেজ, প্লাস্টার ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক তরলসহ গুরুত্বপূর্ণ ড্রেসিং সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ ও অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে এ সংকট বেশি।প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন, যার মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় আসেন। পাশাপাশি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় চাপ আরও বেড়েছে।অর্থোপেডিক ওয়ার্ডের এক সিনিয়র নার্স জানান, বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী না থাকায় রোগীদের স্বজনদের বাইরে থেকে তা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে সংকটের মধ্যেও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে।আরও পড়ুন ,স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হত্যায় গ্রেপ্তার ২এদিকে হাসপাতালের মর্গে হিমাগার বিকল হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ৪০ মরদেহ সংরক্ষণক্ষমতার হিমঘরটি অচল থাকায় অজ্ঞাতনামা নবজাতকসহ প্রায় ২০টি মরদেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।পরবর্তীতে হিমঘরটি মেরামত করা হয় এবং বর্তমানে মরদেহ সংরক্ষণ ও ময়নাতদন্তের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। কিছু মরদেহ ইতোমধ্যে দাফনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে সাময়িক কিছু সংকট তৈরি হলেও দ্রুতই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।অন্যদিকে হাসপাতালের আবাসিক সার্জন বলেন, রোগীর চাপ অত্যধিক হওয়ায় কিছু সামগ্রী স্বল্পতায় পড়েছে, তবে জরুরি ওষুধের কোনো বড় সংকট নেই।সব মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল ঢামেকে চিকিৎসাসেবা চালু থাকলেও সরঞ্জাম সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।