দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য কড়া আহ্বান

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক নৈতিক পদস্খলন ও শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—উভয় ধরনের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। শনিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই দাবি জানান। তাঁরা স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র শিথিলতা বা আপস করা চলবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ কিংবা শিশু নিপীড়ন যেমন সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, তেমনি এর প্রতিকারে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়। সুনির্দিষ্ট নিয়মে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। আরও পড়ুন,দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দলের ভূমিকার অঙ্গীকারকওমি মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের জারি করা নতুন নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতারা জানান, প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা সচল রাখতে হবে। কোনো অভিযোগ ওঠার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল ও অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর আহ্বান জানান হেফাজত নেতারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনের ভবিষ্যৎ শিশুশিক্ষার্থীদের নিরাপদ শৈশব ও কৈশোর নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য কড়া আহ্বান