চলতি মে মাসের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পুরো মে মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক দফায় কালবৈশাখী, বজ্রঝড় ও তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানান, ১৫ মে-র পর বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুইটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঢাকায় অনুষ্ঠিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় জানানো হয়, মে মাসে সারাদেশে মোটামুটি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে, তবে কিছু অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে সিলেট বিভাগে, এরপর ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে। তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত হতে পারে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে।আরও পড়ুন , জুলাই গণঅভ্যুত্থান হত্যা মামলা: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনআবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মে মাসে ৫ থেকে ৮ দিন পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখীর আশঙ্কা রয়েছে, কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।তাপমাত্রা পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, দেশের কিছু এলাকায় ১ থেকে ৩ দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে একটি দফায় তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি উঠতে পারে।নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক থাকলেও ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক পানি বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির প্রবণতা বাড়িয়েছে।আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূবালী বায়ুর সংযোগের কারণেই এমন পরিবর্তিত আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাই উপকূলীয় এলাকাসহ সারাদেশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন , সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোট শুরু, প্রথম দিনেই সুষ্ঠু নির্বাচন