দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

কালুখালীতে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। (১০ জুন) দিনব্যাপী কালুখালী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভিন। আরও  পড়ুন, চকরিয়ায় ডাকাত ও ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার ৫প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যার পাশাপাশি মামলার সংখ্যাও অনেক বেশি। যেসব মামলা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো যদি গ্রাম আদালতেই নিষ্পত্তি করা যায়, তাহলে মামলার জট কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পাবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি বলে মন্তব্য করেছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন।তিনি আরো বলেন, “বিচারকের চেয়ার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এর মূল্য কোনোভাবেই অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। সৃষ্টিকর্তা বিচারকের চেয়ার টাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই যারা এই দায়িত্বপূর্ণ আসনে থাকবেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে- তারা যেন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।আরও  পড়ুন, চোলাই মদ যেন ফেরিওয়ালার বাদাম, হাত বাড়ালেই মিলছে দিরাই- শাল্লায়এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, রাজবাড়ীর উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশিক উন নবী তালুকদার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামস্ সাদাত মাহমুদ উল্লাহ, কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোস্তফা কামাল প্রমূখ।এছাড়াও কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্ষম সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) চিহ্নিত করা এবং এ বিষয়ে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কীভাবে গ্রামীণ জনগণের কাছে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে কার্যকরভাবে তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করা এবং স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও গণমাধ্যমের সঙ্গে ভবিষ্যতে নিয়মিত ফলোআপ ও প্রকল্পভিত্তিক কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করা।কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা সম্প্রসারণে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

কালুখালীতে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত