দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস, প্লাবনের শঙ্কায় কয়েক গ্রামের মানুষ

খোলপেটুয়া নদীর তীব্র জোয়ার ও প্রবল স্রোতের সঙ্গে আর পেরে উঠল না সাতক্ষীরার আশাশুনির কুড়িকাহুনিয়া এলাকার বেড়িবাঁধ। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ। এতে শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটসংলগ্ন একাধিক গ্রাম এখন বড় ধরনের প্লাবনের ঝুঁকিতে। বাঁধ ভেঙে নদীর লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘেরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর '২৬) জোয়ারের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথমে বাঁধের একটি অংশে ধস দেখা দেয়। পরে নদীর প্রবল স্রোত ধসের স্থানটি আরও প্রশস্ত করে। একপর্যায়ে প্রায় ১৫০ ফুট অংশ নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের জনপদে।ভাঙনের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমে পড়েছেন। বস্তায় মাটি ভরে ভাঙনকবলিত অংশে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু নদীর স্রোত ও জোয়ারের পানির চাপের তুলনায় এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরবর্তী জোয়ারে ভাঙন আরও বিস্তৃত হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী দাউদ আলী সংবাদ দিগন্তকে বলেন, “কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশের প্রায় ১৫০ ফুট বাঁধ নদীগর্ভে চলে গেছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।"তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এবারের ভাঙন হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকার বেড়িবাঁধ নাজুক অবস্থায় ছিল। জোয়ারের সময় বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিলেও সেগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে নদীর স্রোতের চাপ বাড়তেই দুর্বল অংশে বড় ধরনের ধস নেমেছে বলে দাবি তাদের।আরও  পড়ুন, শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পিচ্চি রাজার পলায়ন, তদন্তে পুলিশস্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদ দিগন্তকে জানান, বাঁধের এই অংশটি শুধু কয়েকটি গ্রামের সুরক্ষা দেয় না; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এলাকার কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি। বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকলে আমনসহ বিভিন্ন ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মিষ্টি ও লোনা পানির মৎস্যঘেরেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়লে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান তাজকিয়া সংবাদ দিগন্তকে বলেন, “জোয়ারের চাপে ওই পয়েন্টে ধস নেমেছে। ভাঙন ঠেকাতে বস্তা ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি জিও টিউব ব্যবহার করে বিকল্প বাঁধ তৈরির কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে।”তবে শুধু জরুরি মেরামত নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবিও জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর জোয়ারের মৌসুমে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লেও সাময়িক সংস্কারের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।এদিকে ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো চিহ্নিত করে টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, কুড়িকাহুনিয়ার এই ভাঙন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরবর্তী জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও বড় হতে পারে এবং তখন শুধু একটি বাঁধ নয়, পুরো জনপদের নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়বে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা—জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে, যাতে প্রতিবছর নদীভাঙন ও জোয়ারের আতঙ্কে দিন কাটাতে না হয় উপকূলের মানুষকে।

আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস, প্লাবনের শঙ্কায় কয়েক গ্রামের মানুষ