ঈদুল আজহায় কোরবানির পর ঘরে ঘরে যখন মাংস রান্নার ব্যস্ততা, তখনই অনেক পরিবারের সামনে বড় একটি প্রশ্ন—বাকি মাংস কীভাবে দীর্ঘদিন ভালো রাখা যাবে?ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর থাকলেও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এবং সীমিত জায়গার কারণে অনেকেই এখন আবার ফিরে যাচ্ছেন এক পুরোনো পদ্ধতির দিকে—গরুর মাংসের শুঁটকি।আরও পড়ুন, ভাত ঝরঝরে না হওয়ার পেছনে এই সাধারণ ভুলগুলো দায়ীএকসময় গ্রামের মানুষের টিকে থাকার কৌশল হিসেবে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হলেও, এখন এটি শহরেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শুধু খাদ্য সংরক্ষণ নয়, বরং অপচয় কমানোর একটি কার্যকর উপায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে এটিকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে তৈরি করলে গরুর মাংসের শুঁটকিতে প্রোটিন, আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।আরও পড়ুন, মস্তিষ্ক রাখুন তরুণ ও তীক্ষ্ণ, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৫ সুপারফুডঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদদের মতে, শুঁটকি করার ফলে পানির অংশ কমে যায়, ফলে একই ওজনে পুষ্টির ঘনত্ব বেড়ে যায়। তবে সংরক্ষণের প্রক্রিয়াই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গরুর মাংসের শুঁটকি তৈরির জন্য প্রথমে মাংস সেদ্ধ করে মসলা মাখিয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে এটি কয়েক মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।আরও পড়ুন, কোরবানির মাংস খাওয়ার সময় গলায় হাড় বিঁধলে করণীয় ও সতর্কতাতবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অপর্যাপ্ত শুকানো বা ভুল সংরক্ষণে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ঈদের এই সময়ে তাই ঐতিহ্য আর বাস্তবতার মিশেলে আবারও আলোচনায় এসেছে গরুর মাংসের শুঁটকি—একদিকে ইতিহাস, অন্যদিকে আধুনিক টিকে থাকার কৌশল।