রামগঞ্জে জবরদখলে বিলুপ্ত ভাটরা - পানিয়ালা খাল
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১০ নং ভাটরা ইউনিয়নের জন-গুরুত্বপূর্ণ ভাটরা-পানিয়ালা খাল বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। স্থানীয় জবরদখলকারীদের কেউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কেউ বসতবাড়ি নির্মাণ, আবার কেউ ব্যক্তিগত পুল, বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে খালটি নিশ্চিহ্ন করণে প্রতিযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়ে উজানের পানি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার দরুন অত্র অঞ্চলের সহস্রাধিক কৃষক পরিবার প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সেচের পানির অভাবে কৃষি কাজ করতে না পারায় ছেড়ে দিয়েছে চাষাবাদ কার্যক্রম।আরও পড়ুন, প্রধান শিক্ষকই কোচিং ব্যবসায়ী ! সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার আড়ালে বাণিজ্য!এমতাবস্থায় ওই পরিবারগুলোয় দেখা দিয়েছে হাহাকার। ভাটরা ইউনিয়ন তহসিল অফিস সূত্রে জানা যায়, ভাটরা-পানিওয়ালা খাল ভাটরা ইফনিয়নবাসীর জন্য অত্যন্ত জন-গুরুত্বপূর্ণ। এই খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ কিলোমিটার। ভাটরা ইউনিয়ন সহ ভোলাকোট ইউনিয়নের ১৫ থেকে ২০ টি গ্রামের কৃষকমহল এ খালটির উপর নির্ভরশীল। বিগত ৯০ দশকের পর থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল খালটি জবরদখল শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় পরবর্তীতে সকল রাজˆনতিক দল এই জবরদখল প্রক্রিয়াকে উৎসবে পরিণত করে। যার দরুন বর্তমানে খালটি আজ নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এরজন্য ইউনিয়ন পরিষদের তহসিল অফিসকেই দায়ী করেছেন। তারা ভাটরা- পানিওয়ালা খাল উদ্ধারে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানান।আরও পড়ুন, মহেশপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিতএ ব্যাপারে ভাটরা তহসিলদার মোহাম্মদ জহির ভাটরা-পানিওয়ালা খাল জবর দখলের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, খালটি উদ্ধারে ২০২২, ২০২৪, ২০২৫ এবং সর্বশেষ চলতি বছর ২০২৬ সনেও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। অচিরেই জেলা প্রশাসক অফিস কর্তৃক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।