দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

প্রযুক্তিই আশীর্বাদ প্রযুক্তিই অভিশাপ

আমাদের জীবনের প্রতিটি মূহুর্তই কোনে না কোনো প্রযুক্তির আদৌলে পরিচালিত হয়, অন্যথায় আমাদের কাছে সবই দূরবোধ্য বাস্তবতায় পরিগনিত হয়। প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পরক্রমাশীল আবর্তন আমাদের জীবনকে ক্রমশই সহজ ও গতিশীল করে দিচ্ছে। নানা অসাধ্য কাজ চোখের পলকেই সাধ্য হয়ে পড়ছে প্রযুক্তির কল্যাণেই। বর্তমান সভ্যতায় ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি থেকে শুরু করে অনেক সুক্ষ্ম কাজও প্রযুক্তির উন্নত্বতর আবর্তনের ফলে করা সম্ভবপর হচ্ছে। ছোট ছোট শিশুরা ঘরে বসেই খুবই সহজেই পড়াশোনা থেকে শুরু করে অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে, বুঝতে ও দেখতে সক্ষম হচ্ছে। এতে করে শিশুদের মেধার বিকাশ ও দ্রুত সম্ভবপর হচ্ছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান সময়ে রবোটিক্স এর ব্যাবহার এর মাধ্যমে ক্রমেই শ্রমিকের সাহায্য ছাড়াই অনেক সময়সাধ্য কাজ কয়েক সেকেন্ড বা মিমিটেই করতে সক্ষম হচ্ছে। গবেষণাবিদরা তাদের চমৎকার চমৎকার গবেষণার ফলাফল দিয়ে বিশ্বকে পুরষ্কৃত করছে।আরও পড়ন,চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সঙ্গে জবির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকিন্তু এতসব উন্নয়ন, সাহায্য,সহজবোধ্যতা, সক্ষমতার মাঝেও পৃথিবীতে মানুষের স্থায়িত্ব,অস্তিত্ব, দৈহিক, মানসিকও শারীরিক কর্মদক্ষতা ক্রমেই লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। শিশুদের শৈশব ক্রমেই প্রযুক্তির পাতায় বন্দী হয়ে পড়ছে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অগ্রগতির প্রেক্ষাপটের অন্তরালের বিষয়বস্তুুর উৎক্ষেপণ ও প্রযুক্তির ক্রমশ আবর্তন - বিবর্তন ঘটাতে গিয়ে মানুষ নিজ অস্তিত্বকেই কোথাও না কোথাও হারাতে বসেছে। রবোটিক্স ব্যাবহার করার ফলে সহজেই ও সাশ্রয়ীভাবে কাজ সম্পাদন করা গেলেও এতে দক্ষ শ্রমিক তার দক্ষতাকে উপযুক্ত ক্ষেত্র দান করতে পারছে না, তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাচ্ছে, দেশে বেকারত্ব বাড়ছে, দারিদ্র্যতা ক্রমেই আকাশ ছুঁতে বসেছে এবং জনসংখ্যা তো কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত হারে বাড়ছেই। এতে দেশ উন্নতত্বর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই এসব অসংগতির নিচে তলিয়ে যেতে বসেছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের ধারায় সবকিছু এতোই সহজসাধ্য হয়ে পড়েছে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একজন মানুষকে বুলিল-ট্রলিং, অশালীন আচারণ, আরও পড়ুন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান বরখাস্তআপওিকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া খুবই স্বল্প সময়ের ব্যাপার। এতে প্রতি চারজনের অন্তরালে দুই - তিনজনই এর শিকার হচ্ছে এবং নিজেকে রক্ষার্থে একাকীত্ব বেঁচে নিচ্ছে না হয় নিজেকে ঘুটিয়ে নিচ্ছে সব কিছু থেকে না হয় ভয়ানক পথ আত্মহত্যাকে বেচেঁ নিচ্ছে। এছাড়াও এমন অনেক বাস্তবতা ও পরিস্থিতি প্রযুক্তির আদৈালে সৃষ্টি হচ্ছে যা মানুষের জীবনেকে বিপন্ন করে গড়ে তুলছে। প্রযুক্তির আবিষ্কার,আবর্তন - বিবর্তন, গতিশীলতা আশীর্বাদ স্বরূপ হলেও কালের বিবর্তনে এই আশীর্বাদই আমাদের জন জীবনকে গড়ে তুলছে কৃত্রিমতায়, শৈশবকে করছে প্রযুক্তির কবলে বন্দী এবং দেশকে বেকারত্ব, দারিদ্রতা,ধর্ষণ ও আত্মহত্যার করাল গ্রাসে করছে আবদ্ধ। প্রযুক্তি ভালো কাজে ব্যাবহৃত হওয়ার চেয়েও খারাপ দিকগুলোতে অত্যাধিক হারে ব্যাবহৃত হচ্ছে আর প্রযুক্তির এই উন্নয়ন বর্তমান প্রজন্ম, বর্তমান সভ্যতার জন্য হয়ে উঠছে অভিশাপরূপে। 

প্রযুক্তিই আশীর্বাদ প্রযুক্তিই অভিশাপ