দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ফরিদপুরে বাক্সবন্দী ১৪ কোটি টাকার ক্যান্সার যন্ত্র: এক দশকেও মেলেনি চিকিৎসা

ফরিদপুরসহ দক্ষিণ-বঙ্গবাসীর উন্নত ক্যান্সার চিকিৎসার স্বপ্ন এখন ধুলোয় মিশছে। আধুনিক চিকিৎসার আসায় প্রায় ১০ বছর আগে আসা ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিনটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলের অভাবে ২০১৭ সাল থেকে আজ অবধি চালু করা সম্ভব হয়নি হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটটি।আরও পড়ুন, তিতাসের কড়িকান্দি ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে হট্টগোলস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই হাসপাতালে রেডিয়েশন থেরাপি ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে বিভিন্ন দামী যন্ত্রপাতি আনা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর পার হয়ে গেলেও এসব সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি এখনো বাক্সবন্দী। চিকিৎসকদের মতে, এই মেশিনটি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর, যা ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের একটি অন্ধকার কক্ষে অযত্নে পড়ে আছে সরকারের এই বিশাল বিনিয়োগ।ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ইউনিটটি চালু হলে উপকৃত হতো পার্শ্ববর্তী আরও পাচটি জেলা: রাজবাড়ী, মাদারীপুর,শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও মাগুরা। বর্তমানে এই অঞ্চলের অসহায় রোগীদের রেডিয়েশন থেরাপির জন্য রাজধানী ঢাকা অথবা দূরবর্তী কোনো প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে, যা অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে। স্থানীয় এক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ বলেন "একটি লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য। এটি চালু থাকলে অন্তত পাঁচটি জেলার রোগীদের জীবন বাঁচানো সহজ হতো এবং অর্থনৈতিক চাপ কমত।" আারও পড়ুন, ফুলপুরে ৬১ পিচ ইয়াবা সহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটকহাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ডা. হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন, ইউনিটটি সচল করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের মে এবং নভেম্বর মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দফা চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওপর মহল থেকে কোনো কার্যকর নির্দেশনা বা বাজেট বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন, মোরেলগঞ্জে ১২শ’ অসহায় দু:স্থ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো ইলেক্ট্রনিক ও মেডিকেল ডিভাইস দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে তার সেন্সর ও সূক্ষ্ম কলকব্জা বিকল হয়ে যায়। যদি দ্রুত অবকাঠামো তৈরি করে এই মেশিনটি চালু করা না হয়, তবে ১৪ কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় হওয়ার পাশাপাশি এটি স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবহেলায় পড়ে থাকা মূল্যবান এ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ অননা করেন। 

ফরিদপুরে বাক্সবন্দী ১৪ কোটি টাকার ক্যান্সার যন্ত্র: এক দশকেও মেলেনি চিকিৎসা