মহেশপুরে পাগলা কুকুরের আতঙ্ক, তিন দিনে কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক আহত
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর ও শ্রীনাথপুর গ্রামে পাগলা কুকুরের আতঙ্কে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত তিন দিনে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে অন্তত ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাচ্ছেন না কুকুরের হাত থেকে। আতঙ্কে অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, আর জরুরী প্রয়োজনে বের হলেও আত্মরক্ষান্তে হাতে লাঠি নিয়ে চলাফেরা করছেন গ্রামবাসী।এলাকাবাসী জানান, ভবনগর গ্রামে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস। হঠাৎ করেই কয়েকটি কুকুর খ্যাপাটে আচরণ শুরু করে এবং পথচারীদের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই বহু মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। কুকুরের হাত থেকে গবাদি পশুও রক্ষা পাচ্ছেনা। কুকুরের আক্রমণের শিকার কৃষক জামাত আলী জানান, বাড়ি থেকে মাঠে যাওয়ার পথে হঠাৎ পেছন থেকে একটি কুকুর তাকে আক্রমণ করে। এতে তার পায়ের অনেকটা মাংস উঠে যায় এবং হাতে, ও পিঠে গুরুতর আঘাত পান। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন।আরও পড়ুন, তীব্র গরমে চুয়াডাঙ্গায় জনজীবন বিপর্যস্ত, আরও বাড়ার আভাসএকইদিন আরেক কৃষক জিন্নাত আলীও কুকুরের কামড়ে আহত হন। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আচমকাই কুকুরের আক্রমণের শিকার হন তিনি। বর্তমানে তিনিও বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়ারা জানান, গত কয়েকদিনে কুকুরের সংখ্যা বেড়েছে এবং আচরণও অস্বভাবাবিক হয়ে উঠেছে। ফলে শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তারা। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাণী হত্যা না করে কুকুর গুলোকে শনাক্ত করে টিকাদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হেলেনা আক্তার নিপা জানান, কুকুরে কামড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতস্থান ২০ থেকে ২৫ মিনিট সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর পরিষ্কার কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।আরও পড়ুন, শ্রীপুরে ২ দিনেও মিলেনি মাদরাসা ছাত্রী সন্ধানকর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। দ্রুত ভ্যাকসিনের কার্যক্রম শুরু করা হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ কুকুরে কামড়ের পর দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি গ্রামে আগে থেকেই ৩০ থেকে ৪০টি বেওয়ারিশ কুকুর ছিল। আতঙ্কের মধ্যে কিছু কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন এলাকাবাসী। তবে দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।