কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযোগকৃত বালু ব্যবসায়ীদের একটি টোলঘর ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়।শনিবার (৩০ মে) দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে নদী রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।আরও পড়ুন, কালুখালীতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিতমানববন্ধনে বক্তব্য দেন রিভারাইন পিপলের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি নিহারিকা শারমিন দীপি, কার্যকরী সদস্য মো. শাহজালাল, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, খন্দকার বদরুল ইসলাম রাঞ্জু, আশিক ইকবাল ইশাত, রফিকুল ইসলাম রতন এবং আকতারা লিপি।আরও পড়ুন, চিলমারীতে আবাসিক হোটেলে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, হোটেল মালিক গ্রেপ্তারবক্তারা অভিযোগ করেন, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট থেকে কাচকোল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধের কাছাকাছি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ তীররক্ষা বাঁধ ও আশপাশের কয়েকটি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম। তারা আরও বলেন, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয় জনগণ বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছে। অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।আরও পড়ুন, ফুলবাড়ীয়ায় ঐক্যবদ্ধ জনতার সদস্য সম্মেলন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণামানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন দ্রুত বন্ধ করা না হলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রহ্মপুত্রের ডান তীররক্ষা বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বার্থে ও নদী রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযোগকৃত বালু ব্যবসায়ীদের টোলঘরে হামলা চালিয়ে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়।