ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। যৌথ নদী কমিশন বা জেআরসির ৯০তম বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু। ২০ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত নির্ধারিত এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বৃহস্পতিবার। এতে অংশ নিতে ছয় সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল কলকাতায় পৌঁছাচ্ছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীর।আরও পড়ুন, ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ঘোষণা অর্থমন্ত্রীরবাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সৈয়দ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুমানুজ্জামান। এছাড়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর এবং কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেবেন।আরও পড়ুন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরা শুরু করেছেন হাজারো মানুষ।বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ। আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ। ফলে নতুন করে চুক্তি নবায়ন বা পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বৈঠকের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মুর্শিদাবাদে গিয়ে ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর কলকাতায় মূল বৈঠকে অংশ নেবেন তারা।আরও পড়ুন, অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে টিকা দেরি, বাড়ল শিশুমৃত্যুউল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি ভাগাভাগির বিধান রয়েছে। পানির প্রবাহের মাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিউসেক হিসেবে পানি বণ্টনের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক ও নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এবারের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে।