দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

অতিরিক্ত কর আরোপে ব্যবসা সংকুচিত হওয়া চলবে না: এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের কর প্রশাসনকে আরও ব্যবসাবান্ধব ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শিল্প ও করদাতাদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেছেন, রাজস্ব আদায়ের জন্য এমন কোনো অবাস্তব কর প্রস্তাব করা যাবে না, যা শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যবসা খাতকে সংকুচিত করে। সোমবার ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ফিকি) এর প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সবসময় গাণিতিক হারে কর বাড়ালে রাজস্ব বাড়ে না। বরং ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ ও অটোমেশনের মাধ্যমে টেকসই রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব। আগামী বছর থেকে কর্পোরেট আয়কর রিটার্ন শতভাগ অনলাইনে হবে, যা করদাতাদের হয়রানি কমাবে।আরও পড়ুন, মার্চে মূল্যস্ফীতি কমেছে খাদ্যপণ্যের দাম হ্রাসে স্বস্তিআলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় কোমল পানীয় বা কার্বনেটেড বেভারেজ খাতের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের নেতিবাচক প্রভাব। হঠাৎ কর বৃদ্ধি এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কের ফলে ওই খাতের বিক্রি ও সরকারের রাজস্বই কমেছে। ফিকি প্রস্তাব দিয়েছে, প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ নিশ্চিত করতে ন্যূনতম কর ধারা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হোক। এছাড়া কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস, প্রমোশনাল ব্যয়ের সীমা বৃদ্ধি, রেয়াত সুবিধার সম্প্রসারণ এবং ই-ইনভয়েস চালুর মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন, এপ্রিলের প্রথম ৪ দিনে রেমিট্যান্স বেড়ে ৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারএনবিআর চেয়ারম্যান জানান, রিস্ক-বেসড অডিট ও অটোমেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে কর প্রশাসন আরও জনবান্ধব করা হবে। ফিকি জানিয়েছে, নিবন্ধিত তিন লাখ কোম্পানির মধ্যে মাত্র ২১টি খাতের ২১০ বিদেশি কোম্পানি মোট রাজস্বের ৩০ শতাংশ প্রদান করছে। তাই কর ভীতির পরিবর্তে শিল্পকে কর স্বস্তি দিলে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। ফিকি সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, সরকার রাজস্ব আদায় বাড়াতে চাইলে যেন ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মেরে না ফেলে। চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন, ফিকির প্রস্তাবগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট প্রণয়ন করা হবে যা সরকারের রাজস্ব চাহিদা পূরণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখবে।

অতিরিক্ত কর আরোপে ব্যবসা সংকুচিত হওয়া চলবে না: এনবিআর চেয়ারম্যান