ঈদে চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানিকৃত পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চামড়া শিল্প দেশীয় কাঁচামালনির্ভর একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত। এটি জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং মূল্য সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।আরও পড়ুন, টানা পতনের পর ঘুরে দাঁড়াল রপ্তানি আয়, এপ্রিলে ৩৩% প্রবৃদ্ধিসার্কুলারে বলা হয়, প্রতি বছর এই শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের বড় অংশ আসে ঈদুল আজহার সময় কোরবানিকৃত পশুর চামড়া থেকে। তাই এ সময় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট চামড়া ব্যবসায়ীদের অনুকূলে চলতি মূলধন ঋণ দ্রুত মঞ্জুর ও বিতরণ করতে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা যেন সহজে এ সুবিধা পান, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।আরও পড়ুন, সবুজ শিল্পায়নে বাংলাদেশের নতুন মাইলফলক আরও ৪টি আরএমজি কারখানাবাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণ অনুমোদনের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। চামড়া সংগ্রহের প্রতিটি স্তরে অর্থায়নের প্রবাহ বজায় রাখতে ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া, যেসব ব্যবসায়ীর পুনঃতফসিলকৃত ঋণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন ঋণ প্রদানের সময় পূর্বের ঋণের বিপরীতে কম্প্রোমাইজড অর্থ আদায়ের বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।আরও পড়ুন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, দেশে স্বর্ণের দাম কমার ইঙ্গিতসার্কুলারে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে, যা ২০২৫ সালের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হতে পারবে না। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবায়নের তথ্য আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এ নির্দেশনার ফলে চামড়া খাতে উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে গতি আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি এ খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।