ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি কম বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসতে পারেন এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে নতুন মিত্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রোববার, ১৮ অক্টোবর, নির্বাচন সামনে রেখে নিজের নিরাপত্তানীতি ঘোষণা করার সময় এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এমন একজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসতে পারেন, যিনি ইসরাইলের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব পোষণ করবেন না। তাই সম্ভাব্য কঠিন পরিস্থিতির জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরও পড়ুন,নিরাপত্তা উদ্বেগে রিয়াদের কিংডম সেন্টার বন্ধবর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদে ইসরাইলের জন্য যতটা সম্ভব সুবিধা আদায় করে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশ্বের কাছে ইসরাইল যে একা নয়, তা তুলে ধরতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কথাও উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। তাঁর এই বক্তব্যে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসরাইলের বিকল্প অংশীদার তৈরির আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর ঘোষিত নিরাপত্তানীতিকে রাজনৈতিক বক্তব্য বলে কটাক্ষ করেছেন তাঁর প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। তাঁর অভিযোগ, যুদ্ধের মধ্যে নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে এবং নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা পেতে জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরির চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ইসরাইলের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক মিত্রতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ভারত ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।