দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

যুদ্ধ থামলেও থামবে না সংকট! ইরান যুদ্ধের ‘অদৃশ্য বিল’ গুনবে বিশ্ব

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যদি আগামীকালই শান্তিচুক্তি হয়, এমনকি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীও খুলে দেওয়া হয়—তবুও কি শেষ হবে যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত? বিশ্লেষকরা বলছেন, না। যুদ্ধের গুলি থেমে গেলেই অর্থনৈতিক ক্ষতি থেমে যায় না, বরং তার প্রকৃত প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেয়।বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের যুদ্ধের প্রভাব চার ধাপে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম ধাক্কা আসে জ্বালানি ও খাদ্য খাতে। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম, এলএনজি সরবরাহ ব্যয় ও শিপিং খরচ বেড়ে গেলে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে সার উৎপাদন ও কৃষিখাতে। কয়েক মাসের মধ্যে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে থাকে। আরো পড়ুন , যুদ্ধের তিন মাস পর ইরানের অবস্থান নিয়ে নতুন মোড়অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব গিয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশের চালের বাজারেও।দ্বিতীয় ধাপে দেখা দেয় বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামোগত পরিবর্তন। যুদ্ধের সময় বিকল্প শিপিং রুট ব্যবহারে বাধ্য হওয়া কোম্পানিগুলো পরে আর পুরনো পথে ফিরে যেতে চায় না। ফলে যুদ্ধ শেষ হলেও বাণিজ্যের মানচিত্র বদলে যায় স্থায়ীভাবে।তৃতীয় ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লাগে উন্নয়নশীল বা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে। উন্নত দেশগুলো যেখানে ভর্তুকি ও আর্থিক সক্ষমতা দিয়ে সংকট মোকাবিলা করে, সেখানে নিম্ন আয়ের দেশগুলো পড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও আমদানি সংকটে। এতে বাড়ে সামাজিক অস্থিরতা।সবচেয়ে বড় ঝুঁকি আসে চতুর্থ ধাপে—রাজনৈতিক অস্থিরতা। অতীতের আরব বসন্ত, শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট কিংবা পাকিস্তানের অস্থিতিশীলতার মতো পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।তাদের মতে, আন্তর্জাতিক খাদ্য ও সার মজুত, যুদ্ধঝুঁকি বীমা তহবিল এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক নীতিতে সংস্কার ছাড়া এই সংকট সামাল দেওয়া কঠিন হবে। অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রকৃত মূল্য পরিশোধ করবে সেই দেশগুলো, যারা সরাসরি যুদ্ধেই জড়িত ছিল না।

যুদ্ধ থামলেও থামবে না সংকট! ইরান যুদ্ধের ‘অদৃশ্য বিল’ গুনবে বিশ্ব