এসআরবি স্টেশনের বস্তি এলাকা যেন
চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানাধীন পশ্চিম মাদারবাড়ি এসআরবি স্টেশন সংলগ্ন রেলবিট এলাকা যেন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে এক অঘোষিত মাদক মার্কেটে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই চলছে প্রাণঘাতী ইয়াবা ট্যাবলেটের বেচাকেনা যা এখন এলাকাবাসীর কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্টে দাঁড়িয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট খুচরা ক্রেতাদের কাছে ইয়াবা সরবরাহ করছে। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে দ্রুত হাতবদল হচ্ছে মাদক, যেন এটি কোনো সাধারণ লেনদেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা বলেন, এখানে প্রতিদিন লাখ টাকার ইয়াবা বিক্রি হয়। সবাই দেখে, কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারে না ভয়ে।”আরও পড়ুন, মহেশপুরে দলিল লেখকদের উদ্যোগে উন্মুক্ত সবজি বাগান, অসহায়দের জন্য স্বস্তির ঠিকানাস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসআরবি স্টেশন সংলগ্ন রেলবিট এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী ‘ড্রাগ পয়েন্ট’। এসব পয়েন্টে নিয়মিত অবস্থান নেয় সিন্ডিকেটের সদস্যরা। লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়া এতটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে যে এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে এই চিত্র। উল্লেখ্য যে, গেল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এসআরবি স্টেশনের পরিত্যক্ত রেল বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও এই মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ উঠেছে।রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এর হাবিলদার পঙ্কজ রায় গণমাধ্যমকে জানান, স্টেশন এলাকায় বহিরাগতরা প্রবেশ করে নিয়মিত মাদক বিক্রি ও সেবন করে। তাদের বাধা দিতে গিয়ে আরএনবি সদস্যরা বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় বহিরাগতরা প্রথমে সরে গেলেও পরে ফিরে এসে পরিত্যক্ত কোচের সিটের ফোমে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।আরও পড়ুন, মহেশপুরে কোদালের কোপে গৃহবধুকে হত্যাঅভিযোগ রয়েছে, পুরো মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে একটি সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, একাধিক মামলার আসামি জসিম উদ্দিন ও ঝুমকা বাদলসহ একটি চক্র এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সিন্ডিকেটটি এলাকাকে কার্যত ‘সেফ জোন’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যেখানে নির্বিঘ্নে চলে মাদক ব্যবসা। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর অভিযান খুব একটা চোখে পড়ে না।উক্ত বিষয়ে সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রাব্বানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। উক্ত বিষয়ে আমি অবগত নই তবে বিষয়টি দেখছি কেউ মাদক ব্যবসা করলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সংগঠিত মাদক চক্র সাধারণত বহুস্তর বিশিষ্ট হয়। এতে সরবরাহকারী,পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং একটি শক্তিশালী ‘প্রটেকশন নেটওয়ার্ক’ একসঙ্গে কাজ করে। ফলে এই চক্র ভাঙতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযান।আরও পড়ুন, স্বনামধন্য সেলিম আচার ব্যান্ড নকল করে প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা, তবুও মিলছে না প্রতিকারসচেতন মহল বলছে, এই মাদক সিন্ডিকেট শুধু একটি এলাকাকে নয় পুরো প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইয়াবার সহজলভ্যতা তরুণদের দ্রুত আসক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতার মতো অপরাধও বেড়েই চলছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রতিদিন প্রকাশ্যে এমন মাদক বাণিজ্য চললেও তা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে কীভাবে নাকি কোনো কারণে অভিযান থেমে আছে। স্থানীয়দের দাবি,অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর অভিযান চালিয়ে এই মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।