অর্থ পাচারের অভিযোগে নাইজেরিয়ার সাবেক বিদ্যুৎমন্ত্রী সালেহ মাম্মান-কে ৭৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। প্রায় ৩৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন নাইরা অর্থ পাচারের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নাইজেরিয়ার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এ রায়কে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে মাম্মানকে মোট ১২টি অভিযোগে দোষী ঘোষণা করে আদালত। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অর্থ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার করা হয়।আরও পড়ুন, নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলছিল মালিকের লাশবুধবার রাজধানী আবুজা-র একটি উচ্চ আদালত তার অনুপস্থিতিতেই এই সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত তাকে ২২ বিলিয়ন নাইরা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেন। দেশটির অর্থনৈতিক ও আর্থিক অপরাধ কমিশন- ইএফসিসি জানিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকেই মাম্মান নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে আদালত ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।আরও পড়ুন, লক্ষীপুরের বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মঞ্জু চলে গেলেন না ফিরার দেশে৬৮ বছর বয়সী সালেহ মাম্মান ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি-র সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সময় তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সাজা ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে তারাবা রাজ্যের গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন এবং দলীয় মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেন।আরও পড়ুন, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় চট্টগ্রামে নতুন সমন্বয় কমিটির ১০০ কিলোমিটার খাল সচলের উদ্যোগএই ঘটনার পর নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনমনে নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আফ্রিকার অন্যতম বড় জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। ফলে বহু মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনো জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ দেশটির জ্বালানি সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।