দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

গ্যাস ভর্তি চলন্ত বোমা মহাসড়কের পাম্পগুলোতে চলছে অবৈধ কন্টেইনার সার্ভিস বাণিজ্য

সারাদেশে যখন জ্বালানি সংকট চরমে, তখন মহাসড়ক সংলগ্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে এক শ্রেণির অসাধু চক্র রাতের আঁধারে নিয়মবহির্ভূতভাবে কন্টেইনারে করে গ্যাস পাচার করছে। বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত এই বিশাল কন্টেইনারে গ্যাস দেওয়ার ফলে সাধারণ যাত্রীবাহী বাস ও ছোট যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছে না। সম্প্রতি 'সেবা সিএনজি পাম্প'-এ চলা এই অনিয়মের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ সংবাদকর্মীদের হাতে এসেছে।​মধ্যরাতের চিত্র: সাধারণের ভিড় বনাম কন্টেইনারের দাপট​প্রাপ্ত ভিডিও ও সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মধ্যরাতের পর মহাসড়কের পাশের সেবা সিএনজি পাম্পে এক ভিন্ন দৃশ্য তৈরি হয়। পাম্পের আলো কমিয়ে দিয়ে বড় বড় লরি বা কন্টেইনারে কয়েকশ সিলিন্ডার একত্রে যুক্ত করে গ্যাস ভর্তি করা হয়। একেকটি কন্টেইনার ভর্তি করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে, যার ফলে পাম্পে গ্যাসের প্রেশার মারাত্মকভাবে কমে যায়।ফলস্বরূপ, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলোকে 'গ্যাস নেই' অথবা 'প্রেশার কম' বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:​"আমরা সারা রাত লাইনে বসে থাকি ১০-১৫ কেজি গ্যাসের জন্য, আর তারা একবারে হাজার হাজার কেজি গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন সব দেখেও না দেখার ভান করছে।"আরো পড়ুন ,  জ্বালানি সরবরাহ জোরদার, ৬ জাহাজ থেকে খালাস চলছে​ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ও অবৈধ বাণিজ্য​বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে অনুমোদনহীন কন্টেইনারে গ্যাস ভর্তি করা 'চলন্ত বোমা'র সমান। উচ্চচাপের এই গ্যাস কন্টেইনারে স্থানান্তরের সময় সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তিতাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, সিএনজি স্টেশন থেকে শুধুমাত্র যানবাহনের নিবন্ধিত সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়ার কথা। কিন্তু অধিক মুনাফার লোভে সেবা সিএনজি পাম্পের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে চড়া দামে এই গ্যাস বিক্রি করছে।​সংকটের নেপথ্যে যা ঘটছে:​শিল্পে গ্যাস সংকট: অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান সরাসরি সংযোগ না পেয়ে এভাবে কালোবাজারি থেকে গ্যাস সংগ্রহ করছে।​পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেট: সাধারণ গাড়ির তুলনায় কন্টেইনারে গ্যাস দিলে দ্রুত বড় অংকের টাকা পাওয়া যায়, যা পাম্প কর্মচারীদের বকশিস ও মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফা নিশ্চিত করে।​তদারকির অভাব: হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় রাতের বেলা এই সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।​কর্তৃপক্ষের বক্তব্যএ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সেবা সিএনজি পাম্পের অনিয়মের ভিডিও ফুটেজটি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

গ্যাস ভর্তি চলন্ত বোমা মহাসড়কের পাম্পগুলোতে চলছে অবৈধ কন্টেইনার সার্ভিস বাণিজ্য