সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইভিএম প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে এবং একই সঙ্গে অডিট অধিদপ্তরও আর্থিক অনিয়মের একাধিক আপত্তি তুলেছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ৩৮২৫.৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এক লাখ ৫০ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। অর্পিত ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব ইভিএম কেনা হয় এবং প্রকল্পটি গত জুনে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।সংসদকে জানানো হয়, প্রকল্প সমাপ্তির প্রতিবেদন (পিসিআর) গত ১৩ মে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) পাঠানো হলেও এখনো এর মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।আরো পড়ুন , অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে কঠোর অভিযান, জিরো টলারেন্স ঘোষণা সরকারের : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীএদিকে অডিট অধিদপ্তর প্রকল্পে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের একাধিক আপত্তি উত্থাপন করেছে বলে জানান মন্ত্রী। এসব আপত্তি বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।সংসদে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের ১২৫তম সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এসব ইভিএম বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) ও বিভিন্ন গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে।প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ইভিএম ক্রয়ে জনগণের অর্থের অপচয়ের অভিযোগ তুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।এ বিষয়ে সরকার পক্ষ জানায়, পুরো প্রকল্পটি এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং অডিট আপত্তির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।