সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় পতিত জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার জেরে প্রতিপক্ষের অন্তত ৪০টি বাড়িঘরে টানা তিন দিন ধরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বর্তমানে চরম নিরাপত্তহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও সংবাদদাতার পাঠানো তথ্যে জানা যায়, নিজগাঁও গ্রামের একটি পতিত জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রূপ মিয়া ও আজব আলী পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ৩১ অক্টোবর দুই পক্ষের সংঘর্ষে রূপ মিয়ার চাচাতো ভাই আব্দুল মান্নান নিহত হন। নিহতের ঘটনার পরই আজব আলী পক্ষের লোকজন পুলিশি গ্রেপ্তারে ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। পুরুষশূন্য এই সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন গত তিন দিন ধরে আজব আলী ও এলিম উদ্দিনসহ প্রায় ৪০টি বাড়িঘরে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা বাড়িঘর থেকে ধান-চাল, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, জমি চাষের টিলার, কৃষি কাজের ইঞ্জিন, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু এবং যাতায়াতের নৌকা পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে। নারী ও শিশুরা বাড়িতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তহীনতার মধ্যে রয়েছে। এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রূপ মিয়া বলেন, “যে জমি নিয়ে বিরোধ, সেটি আমার বাবার নামে এবং সেখানে আমি মাটি ভরাট করেছি। আমাদের কেউ লুটপাটের সাথে জড়িত নয়। উল্টো প্রতিপক্ষরা আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে আমাদের ওপর মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছে।
আরও পড়ুন,লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে মাদ্রাসাছাত্র নিহত, আহত ৪
আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি, যারাই অপরাধের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, নিজগাঁও গ্রামে লুটপাটের কিছু ঘটনা ঘটেছে বলে তারা শুনেছেন, তবে কারা এর সাথে জড়িত তা নিশ্চিত নয়। তিনি আরও জানান, গ্রামে খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়েছে এবং টিউবওয়েলের পাম্প, টিলার ও ইঞ্জিন নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গ্রামটি বড় ও বাড়িগুলোর দূরত্ব বেশি হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সব জায়গায় পৌঁছাতে পারছে না। শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সুহেল জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় সব ঘরে পুলিশের তাৎক্ষণিক নজরদারি রাখা কঠিন হলেও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সচেষ্ট রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংঘর্ষে জড়িতদের বিচার এবং নিজগাঁও গ্রামে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় পতিত জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার জেরে প্রতিপক্ষের অন্তত ৪০টি বাড়িঘরে টানা তিন দিন ধরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বর্তমানে চরম নিরাপত্তহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও সংবাদদাতার পাঠানো তথ্যে জানা যায়, নিজগাঁও গ্রামের একটি পতিত জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রূপ মিয়া ও আজব আলী পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ৩১ অক্টোবর দুই পক্ষের সংঘর্ষে রূপ মিয়ার চাচাতো ভাই আব্দুল মান্নান নিহত হন। নিহতের ঘটনার পরই আজব আলী পক্ষের লোকজন পুলিশি গ্রেপ্তারে ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। পুরুষশূন্য এই সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন গত তিন দিন ধরে আজব আলী ও এলিম উদ্দিনসহ প্রায় ৪০টি বাড়িঘরে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা বাড়িঘর থেকে ধান-চাল, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, জমি চাষের টিলার, কৃষি কাজের ইঞ্জিন, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু এবং যাতায়াতের নৌকা পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে। নারী ও শিশুরা বাড়িতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তহীনতার মধ্যে রয়েছে। এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রূপ মিয়া বলেন, “যে জমি নিয়ে বিরোধ, সেটি আমার বাবার নামে এবং সেখানে আমি মাটি ভরাট করেছি। আমাদের কেউ লুটপাটের সাথে জড়িত নয়। উল্টো প্রতিপক্ষরা আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে আমাদের ওপর মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছে।
আরও পড়ুন,লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে মাদ্রাসাছাত্র নিহত, আহত ৪
আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি, যারাই অপরাধের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, নিজগাঁও গ্রামে লুটপাটের কিছু ঘটনা ঘটেছে বলে তারা শুনেছেন, তবে কারা এর সাথে জড়িত তা নিশ্চিত নয়। তিনি আরও জানান, গ্রামে খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়েছে এবং টিউবওয়েলের পাম্প, টিলার ও ইঞ্জিন নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গ্রামটি বড় ও বাড়িগুলোর দূরত্ব বেশি হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সব জায়গায় পৌঁছাতে পারছে না। শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সুহেল জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় সব ঘরে পুলিশের তাৎক্ষণিক নজরদারি রাখা কঠিন হলেও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সচেষ্ট রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংঘর্ষে জড়িতদের বিচার এবং নিজগাঁও গ্রামে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
