প্রতিদিনের শ্রেণিকক্ষ, পাঠ্যবই আর পরীক্ষার ব্যস্ততা পেছনে ফেলে একদিনের জন্য খেলাধুলা ও আনন্দে মেতে উঠলেন লালমনিরহাটের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। বালিশ খেলা থেকে শুরু করে দৌড়, চাকতি নিক্ষেপ, দীর্ঘ লম্ফ নানা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে কলেজের পাশের কালেক্টরেট মাঠ। চার শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কালেক্টরেট মাঠে শুরু হয় কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬। দিনব্যাপী এ আয়োজনে বালিশ খেলা, চাকতি নিক্ষেপ, দীর্ঘ লম্ফ, দৌড়, শুয়ে সুতা পরানোসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি ইভেন্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী নির্বাচন করা হয়। এ ছাড়া ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতায়ও নিজেদের সৃজনশীলতা ও বৈচিত্র্যময় সাজে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। নতুন শিক্ষাজীবনের শুরুতেই এমন আয়োজন পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, কলেজে ভর্তি হওয়ার পরপরই এমন আনন্দঘন পরিবেশে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে।
আরও পড়ুন,জেলা গোয়েন্দার অভিযানে ১৪৯ বোতল ফেন্সিডিল সহ ৩ ব্যবসায়ী আটক
অন্যদিকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানান, তারা যখন একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করতেন, তখন কলেজে এ ধরনের আয়োজন হয়নি। তবে নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগে তারা আনন্দিত এবং অধ্যক্ষকে পেয়ে গর্বিত। আয়োজনের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার রায় বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে এখানে এসেছি। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে নানা ধরনের আয়োজন করেছি। এই কলেজে নতুন যোগদানের পর আমার মনে হয়েছে, এখানেও শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন করা সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মন ও শরীর ভালো রাখতে সহায়তা করে। পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনও শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার রায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ধীরাজ কুমার রায়, সহকারী অধ্যাপক মো. মোহামেদুল হক, প্রভাষক মো. নাহিদ পারভেজ, মো. ওলিউজ্জামান ও মো. আব্দুল করিম সাদেকীসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন নিজেদের ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন, তেমনি পাঠ্যবইয়ের বাইরেও তৈরি হয়েছে আনন্দময় অভিজ্ঞতা। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বকে সামনে এনেছে এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রতিদিনের শ্রেণিকক্ষ, পাঠ্যবই আর পরীক্ষার ব্যস্ততা পেছনে ফেলে একদিনের জন্য খেলাধুলা ও আনন্দে মেতে উঠলেন লালমনিরহাটের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। বালিশ খেলা থেকে শুরু করে দৌড়, চাকতি নিক্ষেপ, দীর্ঘ লম্ফ নানা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে কলেজের পাশের কালেক্টরেট মাঠ। চার শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কালেক্টরেট মাঠে শুরু হয় কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬। দিনব্যাপী এ আয়োজনে বালিশ খেলা, চাকতি নিক্ষেপ, দীর্ঘ লম্ফ, দৌড়, শুয়ে সুতা পরানোসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি ইভেন্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী নির্বাচন করা হয়। এ ছাড়া ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতায়ও নিজেদের সৃজনশীলতা ও বৈচিত্র্যময় সাজে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। নতুন শিক্ষাজীবনের শুরুতেই এমন আয়োজন পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, কলেজে ভর্তি হওয়ার পরপরই এমন আনন্দঘন পরিবেশে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে।
আরও পড়ুন,জেলা গোয়েন্দার অভিযানে ১৪৯ বোতল ফেন্সিডিল সহ ৩ ব্যবসায়ী আটক
অন্যদিকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানান, তারা যখন একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করতেন, তখন কলেজে এ ধরনের আয়োজন হয়নি। তবে নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগে তারা আনন্দিত এবং অধ্যক্ষকে পেয়ে গর্বিত। আয়োজনের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার রায় বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে এখানে এসেছি। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে নানা ধরনের আয়োজন করেছি। এই কলেজে নতুন যোগদানের পর আমার মনে হয়েছে, এখানেও শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন করা সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মন ও শরীর ভালো রাখতে সহায়তা করে। পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনও শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার রায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ধীরাজ কুমার রায়, সহকারী অধ্যাপক মো. মোহামেদুল হক, প্রভাষক মো. নাহিদ পারভেজ, মো. ওলিউজ্জামান ও মো. আব্দুল করিম সাদেকীসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন নিজেদের ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন, তেমনি পাঠ্যবইয়ের বাইরেও তৈরি হয়েছে আনন্দময় অভিজ্ঞতা। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বকে সামনে এনেছে এই আয়োজন।
