জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ করেছেন লাখ লাখ তরুণ ও শিক্ষার্থী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। কয়েকটি শহরে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে সারা দেশে অংশ নেন প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসেই ছিলেন ৭০ হাজার। তবে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী জোটের দাবি, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। শুধু প্যারিসেই যোগ দেন ২ লাখ মানুষ। প্যারিস ও লিয়নে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্যারিসে পদযাত্রার শেষ পর্যায়ে ডাস্টবিন ও রাস্তার আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপকভাবে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, টিয়ার গ্যাসের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তাঁদের সংবাদকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে হয়।
আরও পড়ুন,১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর কী ঘটেছিল ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সহিংসতার নিন্দা করলেও সরকারের প্রতি তাঁদের আস্থাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে। ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভ থেকে অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেস সদস্য। এদিকে হ্যালোইনের রাতে বিশৃঙ্খলার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু এ সপ্তাহে শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যয় কমানোর ব্যবস্থা খুঁজছেন তিনি। এর আগে জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ থেকে গত মাসে আন্দোলন শুরু হয়। পরে এতে যোগ দেন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরাও। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এদিকে ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। জার্মানির কোলনে মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষায় ছাঁটাই ও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। দেশটির ৩০টির বেশি শহরে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্যদিকে স্পেনের বার্সেলোনা এবং ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়াতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ করেছেন লাখ লাখ তরুণ ও শিক্ষার্থী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। কয়েকটি শহরে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে সারা দেশে অংশ নেন প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসেই ছিলেন ৭০ হাজার। তবে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী জোটের দাবি, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। শুধু প্যারিসেই যোগ দেন ২ লাখ মানুষ। প্যারিস ও লিয়নে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্যারিসে পদযাত্রার শেষ পর্যায়ে ডাস্টবিন ও রাস্তার আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপকভাবে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, টিয়ার গ্যাসের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তাঁদের সংবাদকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে হয়।
আরও পড়ুন,১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর কী ঘটেছিল ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সহিংসতার নিন্দা করলেও সরকারের প্রতি তাঁদের আস্থাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে। ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভ থেকে অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেস সদস্য। এদিকে হ্যালোইনের রাতে বিশৃঙ্খলার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু এ সপ্তাহে শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যয় কমানোর ব্যবস্থা খুঁজছেন তিনি। এর আগে জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ থেকে গত মাসে আন্দোলন শুরু হয়। পরে এতে যোগ দেন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরাও। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এদিকে ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। জার্মানির কোলনে মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষায় ছাঁটাই ও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। দেশটির ৩০টির বেশি শহরে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্যদিকে স্পেনের বার্সেলোনা এবং ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়াতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন