দিনটি ছিল ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। রোদঝলমলে সকালে ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। কালো পাড়ের গেরুয়া শাড়ি পরে নাশতা সেরে নিয়েছিলেন দিনের কাজের প্রস্তুতি। কিন্তু কে জানত, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রক্তাক্ত এক ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাঁর জীবন! সেদিন সকালে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা ছিল বিদেশি তথ্যচিত্র নির্মাতা পিটার উস্তিনভের। ইন্দিরার জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করছিলেন তিনি। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে নিজের বাসভবন থেকে দপ্তরের উদ্দেশে বের হন ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর পাশে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষী নারায়ণ সিং। কিছুটা পেছনে ছিলেন ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান এবং অন্য কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও দপ্তরের সংযোগপথের একটি ফটকের সামনে এসে ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে কথা বলছিলেন ইন্দিরা। ঠিক তখনই আচমকা গুলির শব্দ।
আরও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রে বিপণিবিতানে হামলা তদন্তে পুলিশ
পরপর তিনটি গুলি ছোড়া হয় তাঁর দিকে। মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এরপর কাছেই থাকা আরেক নিরাপত্তারক্ষী গুলি চালান সাবমেশিনগান দিয়ে। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। গুরুতর আহত ইন্দিরাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নিজেরই দুই শিখ দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ও সতবন্ত সিংয়ের গুলিতে নিহত হন ইন্দিরা গান্ধী। এর পেছনে ছিল ১৯৮৪ সালের জুনে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে পরিচালিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন ব্লু স্টারের পর সৃষ্ট উত্তেজনা ও প্রতিশোধের প্রেক্ষাপট। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড শুধু ভারতের রাজনীতিতেই গভীর ক্ষত তৈরি করেনি, বরং দেশটির ইতিহাসে সূচনা করেছিল এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের। তাঁর মৃত্যুর পর ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শোক ও উত্তেজনা। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে ভয়াবহ শিখবিরোধী সহিংসতা সংঘটিত হয়। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবরের সেই ঘটনা আজও ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হয়ে আছে।
বিষয় : ইন্দিরা গান্ধী

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
দিনটি ছিল ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। রোদঝলমলে সকালে ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। কালো পাড়ের গেরুয়া শাড়ি পরে নাশতা সেরে নিয়েছিলেন দিনের কাজের প্রস্তুতি। কিন্তু কে জানত, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রক্তাক্ত এক ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাঁর জীবন! সেদিন সকালে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা ছিল বিদেশি তথ্যচিত্র নির্মাতা পিটার উস্তিনভের। ইন্দিরার জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করছিলেন তিনি। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে নিজের বাসভবন থেকে দপ্তরের উদ্দেশে বের হন ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর পাশে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষী নারায়ণ সিং। কিছুটা পেছনে ছিলেন ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান এবং অন্য কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও দপ্তরের সংযোগপথের একটি ফটকের সামনে এসে ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে কথা বলছিলেন ইন্দিরা। ঠিক তখনই আচমকা গুলির শব্দ।
আরও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রে বিপণিবিতানে হামলা তদন্তে পুলিশ
পরপর তিনটি গুলি ছোড়া হয় তাঁর দিকে। মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এরপর কাছেই থাকা আরেক নিরাপত্তারক্ষী গুলি চালান সাবমেশিনগান দিয়ে। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। গুরুতর আহত ইন্দিরাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নিজেরই দুই শিখ দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ও সতবন্ত সিংয়ের গুলিতে নিহত হন ইন্দিরা গান্ধী। এর পেছনে ছিল ১৯৮৪ সালের জুনে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে পরিচালিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন ব্লু স্টারের পর সৃষ্ট উত্তেজনা ও প্রতিশোধের প্রেক্ষাপট। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড শুধু ভারতের রাজনীতিতেই গভীর ক্ষত তৈরি করেনি, বরং দেশটির ইতিহাসে সূচনা করেছিল এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের। তাঁর মৃত্যুর পর ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শোক ও উত্তেজনা। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে ভয়াবহ শিখবিরোধী সহিংসতা সংঘটিত হয়। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবরের সেই ঘটনা আজও ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হয়ে আছে।

আপনার মতামত লিখুন