দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে ভুয়া বিলে টাকা লোপাটের অভিযোগে রেল-চসিক-ব্যাংকের ১৪ জনের নামে দুদকের মামলা

চট্টগ্রামে ভুয়া বিলে টাকা লোপাটের অভিযোগে রেল-চসিক-ব্যাংকের ১৪ জনের নামে দুদকের মামলা
চট্টগ্রামে ভুয়া বিলে টাকা লোপাটের অভিযোগ

ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: এক নারী শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে কথিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গঠন, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব চালু এবং ভুয়া বিল তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও সীমান্ত ব্যাংকের মোট ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এ মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। কমিশনের পক্ষে বাদী হয়েছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন। মামলার এজাহারে উঠে এসেছে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের একাধিক ধাপ। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারি দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়, কোহিনুর আক্তার নামে এক নারী শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি কথিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো হয়। 

আরও পড়ুন,সাতক্ষীরায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, আসামির ২ দিনের রিমান্ড

এরপর প্রতিষ্ঠানটির নামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। এসব কার্যক্রমে জাল নথিপত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের নামে তৈরি করা ভুয়া বিলের বিপরীতে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি, চেকটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এরপর ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে কয়েক দফায় অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। এ ঘটনায় রেলওয়ের আটজন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনজন এবং সীমান্ত ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। রেলওয়ের অভিযুক্ত আটজন হলেন অস্থায়ী কর্মী মো. হাবিবুল্লা খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান। 


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অভিযুক্ত তিনজন হলেন লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন। অন্যদিকে সীমান্ত ব্যাংকের অভিযুক্ত তিনজন হলেন কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার। দুদক সূত্রে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সাপেক্ষে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রেলওয়ের অর্থ ছাড়, সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান এবং ব্যাংক হিসাব খোলার মতো পৃথক প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া কীভাবে এই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হলো, তা মামলার গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও প্রত্যেক আসামির দায় তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

বিষয় : চট্টগ্রাম অভিযোগ মামলা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রামে ভুয়া বিলে টাকা লোপাটের অভিযোগে রেল-চসিক-ব্যাংকের ১৪ জনের নামে দুদকের মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: এক নারী শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে কথিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গঠন, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব চালু এবং ভুয়া বিল তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও সীমান্ত ব্যাংকের মোট ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এ মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। কমিশনের পক্ষে বাদী হয়েছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন। মামলার এজাহারে উঠে এসেছে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের একাধিক ধাপ। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারি দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়, কোহিনুর আক্তার নামে এক নারী শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি কথিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো হয়। 

আরও পড়ুন,সাতক্ষীরায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, আসামির ২ দিনের রিমান্ড

এরপর প্রতিষ্ঠানটির নামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। এসব কার্যক্রমে জাল নথিপত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের নামে তৈরি করা ভুয়া বিলের বিপরীতে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি, চেকটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এরপর ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে কয়েক দফায় অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। এ ঘটনায় রেলওয়ের আটজন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনজন এবং সীমান্ত ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। রেলওয়ের অভিযুক্ত আটজন হলেন অস্থায়ী কর্মী মো. হাবিবুল্লা খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান। 


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অভিযুক্ত তিনজন হলেন লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন। অন্যদিকে সীমান্ত ব্যাংকের অভিযুক্ত তিনজন হলেন কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার। দুদক সূত্রে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সাপেক্ষে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রেলওয়ের অর্থ ছাড়, সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান এবং ব্যাংক হিসাব খোলার মতো পৃথক প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া কীভাবে এই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হলো, তা মামলার গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও প্রত্যেক আসামির দায় তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
চট্টগ্রামে ভুয়া বিলে টাকা লোপাটের অভিযোগে রেল-চসিক-ব্যাংকের ১৪ জনের নামে দুদকের মামলা
0:00 0:00
1.0x