আশ্রিত ব্যক্তির মাধ্যমে জমি জবরদখলের অপচেষ্টা এবং তা প্রতিহত করতে গিয়ে লামা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন ও ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছেন এক ভূমিমালিক। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বান্দরবানের লামায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া।আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ২ নং লামা সদর ইউনিয়নের লেইংগ্যা ঘোনা এলাকার বাসিন্দা চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া।লিখিত বক্তব্যে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী কামনা রাণী বড়ুয়া ২৯৫ নম্বর লামা মৌজার ১৭ নম্বর হোল্ডিংয়ে সাড়ে তিন একর জমি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। উক্ত জমিতে বাগান সৃজনসহ বিপুল অর্থ ও পরিশ্রম বিনিয়োগ করেছেন তারা।
ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ফেরদৌসেরমানবিক বিবেচনায় তিনি স্থানীয় মো. আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে বসবাসের সুযোগ দেন। তবে পরবর্তীতে আলমগীর বিশ্বাসভঙ্গ করে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৮ ধারায় বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আদালতে মামলা (মামলা নং—১৬/২০২৬) দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য লামা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন।চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়ার অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান সরেজমিনে সঠিক তথ্য যাচাই না করে বিবাদীর পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন। শুধু তাই নয়, সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত মো. আলমগীরের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) রয়েছে, যেখানে তথ্যগত চরম অসংগতি বিদ্যমান। এছাড়া ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিতর্কিত ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লিখিত স্বামী-স্ত্রীকে ভাই-বোন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ভাটেরারচরে সংঘর্ষ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনাএসব জালিয়াতির পেছনে ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো: ভূমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। বান্দরবান এডিসি আদালতে চলমান ১৬/২০২৬ নম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করা। ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। মো. আলমগীরের ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ওয়ারিশ সনদের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিচার করা। ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা। তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগী পরিবারের জমি ভোগদখলের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর আকুল আবেদন জানান।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
আশ্রিত ব্যক্তির মাধ্যমে জমি জবরদখলের অপচেষ্টা এবং তা প্রতিহত করতে গিয়ে লামা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন ও ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছেন এক ভূমিমালিক। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বান্দরবানের লামায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া।আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ২ নং লামা সদর ইউনিয়নের লেইংগ্যা ঘোনা এলাকার বাসিন্দা চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া।লিখিত বক্তব্যে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী কামনা রাণী বড়ুয়া ২৯৫ নম্বর লামা মৌজার ১৭ নম্বর হোল্ডিংয়ে সাড়ে তিন একর জমি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। উক্ত জমিতে বাগান সৃজনসহ বিপুল অর্থ ও পরিশ্রম বিনিয়োগ করেছেন তারা।
ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ফেরদৌসেরমানবিক বিবেচনায় তিনি স্থানীয় মো. আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে বসবাসের সুযোগ দেন। তবে পরবর্তীতে আলমগীর বিশ্বাসভঙ্গ করে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৮ ধারায় বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আদালতে মামলা (মামলা নং—১৬/২০২৬) দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য লামা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন।চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়ার অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান সরেজমিনে সঠিক তথ্য যাচাই না করে বিবাদীর পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন। শুধু তাই নয়, সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত মো. আলমগীরের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) রয়েছে, যেখানে তথ্যগত চরম অসংগতি বিদ্যমান। এছাড়া ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিতর্কিত ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লিখিত স্বামী-স্ত্রীকে ভাই-বোন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ভাটেরারচরে সংঘর্ষ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনাএসব জালিয়াতির পেছনে ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো: ভূমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। বান্দরবান এডিসি আদালতে চলমান ১৬/২০২৬ নম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করা। ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। মো. আলমগীরের ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ওয়ারিশ সনদের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিচার করা। ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা। তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগী পরিবারের জমি ভোগদখলের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর আকুল আবেদন জানান।

আপনার মতামত লিখুন