দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম নিজস্ব বিষয় আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম নিজস্ব বিষয় আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা সম্প্রদায়গত পরিচয় নয়, বাংলাদেশের নাগরিকত্বই রাষ্ট্রের কাছে মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রধান ভিত্তি এমন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর বিভাজন ভুলে প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা দিতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই গড়ে তুলতে হবে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতি অধিকার ও নাগরিক হিসেবে মর্যাদার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য থাকার সুযোগ নেই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান প্রত্যেকেই এই ভূখণ্ডের সমান অংশীদার। ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চর্চার বিষয় হলেও দেশ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক সবার জন্য অভিন্ন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর একক লড়াই ছিল না।স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় সেদিন দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়েছিলেন। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য অসংখ্য মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই আত্মত্যাগের পেছনে ধর্মীয় বিভাজন নয়, কাজ করেছে দেশপ্রেম ও মুক্তির অভিন্ন প্রত্যাশা। 

আরও পড়ুন,পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক সহায়তা দিলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকার সংকটের মুখে পড়লেও দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করেছেন। এসব আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের পার্থক্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবাই নিজেদের একই দেশের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। নারী, পুরুষ, তরুণ, শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সের মানুষের অংশগ্রহণে সেই আন্দোলন গণমানুষের প্রতিরোধে পরিণত হয়েছিল। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ মানুষকে উদ্ধার কিংবা হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার সময় কেউ তাঁর ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করেননি। বিপন্ন মানুষের জীবন রক্ষাই তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। চিকিৎসকেরাও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, জাতীয় সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধই সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনায় সেই মানবিক ঐক্যের প্রতিফলন ঘটেছে। ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংখ্যালঘু পরিচয়ের প্রচলিত বিভাজন নিয়েও বক্তব্য দেন সরকারপ্রধান। তিনি মনে করেন, সংখ্যার বিচারে মানুষকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন না করে প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। নিজের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে বহু বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে হয়েছে। বাংলাদেশে যে ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ, যুক্তরাজ্যে সেই একই পরিচয়ের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ নন। ফলে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘুর ধারণা স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে এমন পরিচয় বৈষম্যের ভিত্তি হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রের আইন কোনো বিশেষ ধর্মের মানুষের জন্য আলাদা হওয়ার সুযোগ নেই। আইনের প্রয়োগ, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বাংলাদেশির সমান অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের অজুহাতে কাউকে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী মানুষের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সংগ্রামের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষ ভয় ও বৈষম্যমুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনায় সব ধর্মাবলম্বী মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; এর সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার।

আরও পড়ুন,গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা বক্তব্য, তদন্তের ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার

এই দেশ আমাদের সকলের।” জাতীয় উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুসংহত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ধর্মীয় উৎসবের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়, নাগরিক সমতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা স্মরণ করিয়ে তাঁর আহ্বানের মূল সুর ছিল ধর্মীয় ভিন্নতা বজায় রেখেও সমান অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

বিষয় : সবাই প্রধানমন্ত্রী ধর্ম

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


ধর্ম নিজস্ব বিষয় আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

 ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা সম্প্রদায়গত পরিচয় নয়, বাংলাদেশের নাগরিকত্বই রাষ্ট্রের কাছে মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রধান ভিত্তি এমন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর বিভাজন ভুলে প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা দিতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই গড়ে তুলতে হবে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতি অধিকার ও নাগরিক হিসেবে মর্যাদার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য থাকার সুযোগ নেই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান প্রত্যেকেই এই ভূখণ্ডের সমান অংশীদার। ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চর্চার বিষয় হলেও দেশ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক সবার জন্য অভিন্ন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর একক লড়াই ছিল না।স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় সেদিন দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়েছিলেন। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য অসংখ্য মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই আত্মত্যাগের পেছনে ধর্মীয় বিভাজন নয়, কাজ করেছে দেশপ্রেম ও মুক্তির অভিন্ন প্রত্যাশা। 

আরও পড়ুন,পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক সহায়তা দিলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকার সংকটের মুখে পড়লেও দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করেছেন। এসব আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের পার্থক্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবাই নিজেদের একই দেশের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। নারী, পুরুষ, তরুণ, শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সের মানুষের অংশগ্রহণে সেই আন্দোলন গণমানুষের প্রতিরোধে পরিণত হয়েছিল। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ মানুষকে উদ্ধার কিংবা হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার সময় কেউ তাঁর ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করেননি। বিপন্ন মানুষের জীবন রক্ষাই তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। চিকিৎসকেরাও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, জাতীয় সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধই সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনায় সেই মানবিক ঐক্যের প্রতিফলন ঘটেছে। ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংখ্যালঘু পরিচয়ের প্রচলিত বিভাজন নিয়েও বক্তব্য দেন সরকারপ্রধান। তিনি মনে করেন, সংখ্যার বিচারে মানুষকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন না করে প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। নিজের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে বহু বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে হয়েছে। বাংলাদেশে যে ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ, যুক্তরাজ্যে সেই একই পরিচয়ের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ নন। ফলে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘুর ধারণা স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে এমন পরিচয় বৈষম্যের ভিত্তি হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রের আইন কোনো বিশেষ ধর্মের মানুষের জন্য আলাদা হওয়ার সুযোগ নেই। আইনের প্রয়োগ, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বাংলাদেশির সমান অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের অজুহাতে কাউকে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী মানুষের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সংগ্রামের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষ ভয় ও বৈষম্যমুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনায় সব ধর্মাবলম্বী মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; এর সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার।

আরও পড়ুন,গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা বক্তব্য, তদন্তের ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার

এই দেশ আমাদের সকলের।” জাতীয় উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুসংহত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ধর্মীয় উৎসবের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়, নাগরিক সমতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা স্মরণ করিয়ে তাঁর আহ্বানের মূল সুর ছিল ধর্মীয় ভিন্নতা বজায় রেখেও সমান অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ধর্ম নিজস্ব বিষয় আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক: প্রধানমন্ত্রী
0:00 0:00
1.0x