মানবিকতা আর দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার হাসান আল বাশার আবুল উলায়ী।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী অসুস্থ, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম যাত্রীদের কষ্ট লাঘব করতে তিনি নিজ উদ্যোগে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করেছেন। শুক্রবার বিকালে আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মিশুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি মো. আলা উদ্দিনের কাছে তুলে দেয়া হয়।
এসময় আখাউড়া কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান, আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এসআই আব্দুর রহিম, আখাউড়া আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের ল্যান্স নায়েক কেএস কামরুল ও সিপাহী ফয়সাল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্তপথে বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াতের সবচেয়ে ব্যস্ততম রুটগুলোর একটি। প্রতিদিন শত শত পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন। ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ লাইন এবং জিরো পয়েন্ট থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ পথ হেঁটে পার হতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বয়োবৃদ্ধ
বয়স্ক আর অসুস্থ যাত্রীরা। অনেক সময় অসুস্থ রোগীকে কোলে করে বা ধরে ধরে পার করতে হয় স্বজনদের— কারণ, এখানে কোন হুইলচেয়ার নেই। পূর্বে যদিও সাবেক সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ একটি হুইলচেয়ার উপহার দিয়েছিল। সেটি পুরাতন হয়ে ভেঙে যায়। এ মানবিক সংকটের কথা বিবেচনা করেই ভারতের ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার হাসান আল বাশার আবুল উলায়ী আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে যাত্রীসেবায় হুইলচেয়ার উপহার দেন। তার দেওয়া হুইলচেয়ারটি এখন থেকে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টেই সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজন হলেই দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সহায়তায় যে কোনো অসহায় যাত্রী তা ব্যবহার করতে পারবেন।
আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মিশু বলেন, স্থানীয়দের চোখে এই উদ্যোগ শুধু একটি হুইলচেয়ার প্রদান নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। একজন কূটনীতিক যে শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠ পর্যায়ের যাত্রীদের কষ্টও অনুভব করেন - হাসান আল বাশার আবুল উলায়ী তার প্রমাণ দিলেন।
আড়ও পড়ুন,পরিকল্পিত সন্ত্রাসের অপচেষ্টার প্রতিবাদে গংগাচড়ায় বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল
একজন বয়স্ক যাত্রীর স্বজন বলেন, "আমার বয়োবৃদ্ধ মা হাঁটতে পারেন না। প্রতিবার এপথে ভারতে চিকিৎসার জন্য নিতে খুব কষ্ট হতো। এখন হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা থাকায় আমাদের মতো হাজারো পরিবারের কষ্ট কমে যাবে।"
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি মো. আলা উদ্দিন বলেন,"স্যারের এই উপহারটি আমাদের যাত্রীসেবার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। এপথে অসুস্থ যাত্রী আসলে আমাদেরও খারাপ লাগতো, কিন্তু ব্যবস্থা না থাকায় কিছু করার ছিল না। এখন থেকে আমরা সসম্মানে তাদের সেবা দিতে পারব।
বিষয় : সহকারী যাত্রীসেবা ইমিগ্রেশন

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মানবিকতা আর দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার হাসান আল বাশার আবুল উলায়ী।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী অসুস্থ, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম যাত্রীদের কষ্ট লাঘব করতে তিনি নিজ উদ্যোগে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করেছেন। শুক্রবার বিকালে আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মিশুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি মো. আলা উদ্দিনের কাছে তুলে দেয়া হয়।
এসময় আখাউড়া কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান, আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এসআই আব্দুর রহিম, আখাউড়া আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের ল্যান্স নায়েক কেএস কামরুল ও সিপাহী ফয়সাল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্তপথে বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াতের সবচেয়ে ব্যস্ততম রুটগুলোর একটি। প্রতিদিন শত শত পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন। ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ লাইন এবং জিরো পয়েন্ট থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ পথ হেঁটে পার হতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বয়োবৃদ্ধ
বয়স্ক আর অসুস্থ যাত্রীরা। অনেক সময় অসুস্থ রোগীকে কোলে করে বা ধরে ধরে পার করতে হয় স্বজনদের— কারণ, এখানে কোন হুইলচেয়ার নেই। পূর্বে যদিও সাবেক সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ একটি হুইলচেয়ার উপহার দিয়েছিল। সেটি পুরাতন হয়ে ভেঙে যায়। এ মানবিক সংকটের কথা বিবেচনা করেই ভারতের ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার হাসান আল বাশার আবুল উলায়ী আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে যাত্রীসেবায় হুইলচেয়ার উপহার দেন। তার দেওয়া হুইলচেয়ারটি এখন থেকে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টেই সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজন হলেই দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সহায়তায় যে কোনো অসহায় যাত্রী তা ব্যবহার করতে পারবেন।
আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মিশু বলেন, স্থানীয়দের চোখে এই উদ্যোগ শুধু একটি হুইলচেয়ার প্রদান নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। একজন কূটনীতিক যে শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠ পর্যায়ের যাত্রীদের কষ্টও অনুভব করেন - হাসান আল বাশার আবুল উলায়ী তার প্রমাণ দিলেন।
আড়ও পড়ুন,পরিকল্পিত সন্ত্রাসের অপচেষ্টার প্রতিবাদে গংগাচড়ায় বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল
একজন বয়স্ক যাত্রীর স্বজন বলেন, "আমার বয়োবৃদ্ধ মা হাঁটতে পারেন না। প্রতিবার এপথে ভারতে চিকিৎসার জন্য নিতে খুব কষ্ট হতো। এখন হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা থাকায় আমাদের মতো হাজারো পরিবারের কষ্ট কমে যাবে।"
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি মো. আলা উদ্দিন বলেন,"স্যারের এই উপহারটি আমাদের যাত্রীসেবার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। এপথে অসুস্থ যাত্রী আসলে আমাদেরও খারাপ লাগতো, কিন্তু ব্যবস্থা না থাকায় কিছু করার ছিল না। এখন থেকে আমরা সসম্মানে তাদের সেবা দিতে পারব।

আপনার মতামত লিখুন