রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর বুধবার বিদ্যালয়ে গেলে কয়েকজন অভিভাবক তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।পরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে তাকেও অবরুদ্ধ করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা তারা অবরুদ্ধ ছিলেন।পরে পুলিশি পাহারায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বের করে নেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানায়। এরপর থেকে ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। বুধবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে এলে কয়েকজন অভিভাবক তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।পরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ঘটনাস্থলে আসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন, গ্যাস ডিপোর সামনে বিসিকের বর্জ্যে আগুন, ভয়াবহ দুর্ঘটনার শঙ্কা
তাদের দাবি, ওই শিক্ষকের আচরণে মেয়েশিক্ষার্থীরা অস্বস্তি বোধ করত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।এদিকে কয়েকজন অভিভাবক দাবি করেছেন, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সবাইকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সবাইকে বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় তাদের বের করে দেওয়া হয়। আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি বিদ্যালয়ে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা শুনেছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি যেন আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি কখনো চিন্তা করতে পারিনি আমার এই শিক্ষক এ ধরনের কাজ করবেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ‘ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ফোন করে বিদ্যালয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার কথা জানানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।’
বিষয় : বরখাস্ত যৌন হয়রানি পঞ্চম শ্রেণি

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর বুধবার বিদ্যালয়ে গেলে কয়েকজন অভিভাবক তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।পরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে তাকেও অবরুদ্ধ করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা তারা অবরুদ্ধ ছিলেন।পরে পুলিশি পাহারায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বের করে নেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানায়। এরপর থেকে ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। বুধবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে এলে কয়েকজন অভিভাবক তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।পরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ঘটনাস্থলে আসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন, গ্যাস ডিপোর সামনে বিসিকের বর্জ্যে আগুন, ভয়াবহ দুর্ঘটনার শঙ্কা
তাদের দাবি, ওই শিক্ষকের আচরণে মেয়েশিক্ষার্থীরা অস্বস্তি বোধ করত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।এদিকে কয়েকজন অভিভাবক দাবি করেছেন, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সবাইকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সবাইকে বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় তাদের বের করে দেওয়া হয়। আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি বিদ্যালয়ে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা শুনেছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি যেন আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি কখনো চিন্তা করতে পারিনি আমার এই শিক্ষক এ ধরনের কাজ করবেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ‘ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ফোন করে বিদ্যালয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার কথা জানানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।’

আপনার মতামত লিখুন