নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক দিনমজুর দম্পতির কোরবানির ঈদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে চোরের দল। পালিত একটি ষাঁড় চুরি করে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা—এমন অভিযোগে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারটি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামে। ভুক্তভোগী জিয়া শেখ ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম দম্পতির একমাত্র সম্বল ছিল গরুটি, যা কোরবানির ঈদে বিক্রি করে একটি টিনের ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তাদের।
আরও পড়ুন, খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া ‘কালো মানিক’ বিক্রি ২০ লাখ টাকায়
পরিবারটি জানায়, রবিবার (২৪ মে) রাতের কোনো এক সময় গোয়ালঘরের শিকল কেটে গরুটি চুরি করা হয়। পরদিন সকালে গরুর চামড়া পুকুরপাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন তারা। দিনমজুর জিয়া শেখ দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কোমরের ব্যথার কারণে তিনি কৃষিকাজ করতে পারেন না। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালালেও এক বছরের মধ্যে তার দুটি ভ্যান চুরি হয়ে যায় বলে জানান তিনি। পরে ঋণ করে আরেকটি ভ্যান কিনলেও সেটিও চুরি হয়ে যায়।
এ অবস্থায় পরিবারটি একটি গরু লালন-পালন করছিল। কোরবানির ঈদে গরুটির দাম এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু বেশি দামের আশায় গরুটি বিক্রি না করে রাখায় শেষ পর্যন্ত তা চুরি হয়ে যায়। জিয়া শেখ বলেন, “আমার সব শেষ করে দিয়েছে চোরের দল। গরুটা বিক্রি করে ঘর তুলবো ভাবছিলাম। এখন কিছুই নেই। সকালে গরুর চামড়া পুকুরপাড়ে পড়ে ছিল।”
আরও পড়ুন, চাটখিলে হাট মাতাচ্ছে ‘নোয়াখালীর বস’, দাম হাঁকা ১০ লাখ টাকা
তিনি আরও জানান, পরিবারে তিন সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে বড় মেয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। গরু চুরির ঘটনায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।স্বপ্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কিস্তি তুলে গরুটা কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম কোরবানিতে বিক্রি করে একটু স্বস্তিতে থাকবো। এখন সব শেষ।” এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারটির বসতভিটা ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। জরাজীর্ণ ঘরে ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কোনোভাবে বসবাস করছে তারা।
আরও পড়ুন, অলস স্বভাবের ষাঁড়, নাম তার ‘কমিশনার’
লক্ষীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নূর মোহাম্মদ বলেন, “পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। তাদের একমাত্র সম্বল গরুটি চুরি হওয়ায় তারা ভেঙে পড়েছে। আমরা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।” লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিজন কুমার জানান, “গরু চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা চোরচক্র দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক দিনমজুর দম্পতির কোরবানির ঈদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে চোরের দল। পালিত একটি ষাঁড় চুরি করে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা—এমন অভিযোগে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারটি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামে। ভুক্তভোগী জিয়া শেখ ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম দম্পতির একমাত্র সম্বল ছিল গরুটি, যা কোরবানির ঈদে বিক্রি করে একটি টিনের ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তাদের।
আরও পড়ুন, খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া ‘কালো মানিক’ বিক্রি ২০ লাখ টাকায়
পরিবারটি জানায়, রবিবার (২৪ মে) রাতের কোনো এক সময় গোয়ালঘরের শিকল কেটে গরুটি চুরি করা হয়। পরদিন সকালে গরুর চামড়া পুকুরপাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন তারা। দিনমজুর জিয়া শেখ দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কোমরের ব্যথার কারণে তিনি কৃষিকাজ করতে পারেন না। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালালেও এক বছরের মধ্যে তার দুটি ভ্যান চুরি হয়ে যায় বলে জানান তিনি। পরে ঋণ করে আরেকটি ভ্যান কিনলেও সেটিও চুরি হয়ে যায়।
এ অবস্থায় পরিবারটি একটি গরু লালন-পালন করছিল। কোরবানির ঈদে গরুটির দাম এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু বেশি দামের আশায় গরুটি বিক্রি না করে রাখায় শেষ পর্যন্ত তা চুরি হয়ে যায়। জিয়া শেখ বলেন, “আমার সব শেষ করে দিয়েছে চোরের দল। গরুটা বিক্রি করে ঘর তুলবো ভাবছিলাম। এখন কিছুই নেই। সকালে গরুর চামড়া পুকুরপাড়ে পড়ে ছিল।”
আরও পড়ুন, চাটখিলে হাট মাতাচ্ছে ‘নোয়াখালীর বস’, দাম হাঁকা ১০ লাখ টাকা
তিনি আরও জানান, পরিবারে তিন সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে বড় মেয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। গরু চুরির ঘটনায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।স্বপ্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কিস্তি তুলে গরুটা কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম কোরবানিতে বিক্রি করে একটু স্বস্তিতে থাকবো। এখন সব শেষ।” এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারটির বসতভিটা ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। জরাজীর্ণ ঘরে ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কোনোভাবে বসবাস করছে তারা।
আরও পড়ুন, অলস স্বভাবের ষাঁড়, নাম তার ‘কমিশনার’
লক্ষীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নূর মোহাম্মদ বলেন, “পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। তাদের একমাত্র সম্বল গরুটি চুরি হওয়ায় তারা ভেঙে পড়েছে। আমরা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।” লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিজন কুমার জানান, “গরু চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা চোরচক্র দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন