নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি র্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরের পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থিত র্যাব-৭ কার্যালয়ে শহীদ নায়েব সুবেদার মোতালেবের জানাজা শেষে সাংবাদিক দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। র্যাব ডিজি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে র্যাব সবসময় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
তিনি জানান, নায়েব সুবেদার মোতালেব শহীদ হওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি র্যাবের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে মনিটর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
র্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, ২০০৪ সালে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাহিনীর ৭৫ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। নায়েব সুবেদার মোতালেবের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে সেই তালিকায় আরও একটি নাম যুক্ত হলো। যেকোনো ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও র্যাব সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় বছরে বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযানে ঝুঁকি থাকে।
সলিমপুরের অভিযানের প্রসঙ্গে র্যাব ডিজি বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গুলি চালানো হয়নি, কারণ এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। অভিযানে কোনো ধরনের ত্রুটি বা কৌশলগত সীমাবদ্ধতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শহীদ মোতালেবের পরিবারের দায়িত্ব র্যাব গ্রহণ করেছে। পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে র্যাব সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
আরও পড়ুন, সাংবাদিকদের সাথে কিশোরগঞ্জ ০১ আসনের প্রার্থী মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদীর মতবিনিময়
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, অভিযানের সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়। ভিডিও ফুটেজে মাইকের ব্যবহার স্পষ্টভাবে শোনা গেছে এবং একটি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযানে প্রায় ৫০ জনের বেশি সদস্য অংশ নেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে অভিযানের কৌশল ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে।
র্যাব মহাপরিচালক শেষাংশে বলেন, সন্ত্রাসীদের এই অভয়ারণ্য উচ্ছেদে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন, জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে যত সময়ই লাগুক না কেন, এই সন্ত্রাসী আস্তানা নির্মূল করা হবে। কারণ কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নয়।
বিষয় : হত্যাকাণ্ড অঙ্গীকার

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬
নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি র্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরের পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থিত র্যাব-৭ কার্যালয়ে শহীদ নায়েব সুবেদার মোতালেবের জানাজা শেষে সাংবাদিক দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। র্যাব ডিজি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে র্যাব সবসময় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
তিনি জানান, নায়েব সুবেদার মোতালেব শহীদ হওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি র্যাবের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে মনিটর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
র্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, ২০০৪ সালে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাহিনীর ৭৫ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। নায়েব সুবেদার মোতালেবের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে সেই তালিকায় আরও একটি নাম যুক্ত হলো। যেকোনো ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও র্যাব সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় বছরে বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযানে ঝুঁকি থাকে।
সলিমপুরের অভিযানের প্রসঙ্গে র্যাব ডিজি বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গুলি চালানো হয়নি, কারণ এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। অভিযানে কোনো ধরনের ত্রুটি বা কৌশলগত সীমাবদ্ধতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শহীদ মোতালেবের পরিবারের দায়িত্ব র্যাব গ্রহণ করেছে। পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে র্যাব সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
আরও পড়ুন, সাংবাদিকদের সাথে কিশোরগঞ্জ ০১ আসনের প্রার্থী মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদীর মতবিনিময়
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, অভিযানের সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়। ভিডিও ফুটেজে মাইকের ব্যবহার স্পষ্টভাবে শোনা গেছে এবং একটি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযানে প্রায় ৫০ জনের বেশি সদস্য অংশ নেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে অভিযানের কৌশল ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে।
র্যাব মহাপরিচালক শেষাংশে বলেন, সন্ত্রাসীদের এই অভয়ারণ্য উচ্ছেদে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন, জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে যত সময়ই লাগুক না কেন, এই সন্ত্রাসী আস্তানা নির্মূল করা হবে। কারণ কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নয়।

আপনার মতামত লিখুন