রাজধানীর জুরাইন এলাকায় শারমিন আক্তার শেলী হত্যাকাণ্ড নতুন মোড় নিয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে। হত্যার পরও তার মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট হওয়ায় শুরুতে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।কদমতলী থানার একটি বাসা থেকে শেলীর গলিত লাশ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে এটি একটি রহস্যজনক ঘটনা মনে হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।তদন্তে দেখা যায়, শেলীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাসকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন ২১ এপ্রিল রাতে বাসায় প্রবেশ করেন এবং পরদিন সকালে বেরিয়ে যান। এরপর ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করা হয়।দুই দিন পর বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বাড়িওয়ালা শেলীর নম্বরে বার্তা পাঠান। আশ্চর্যজনকভাবে সেই নম্বর থেকেই উত্তর আসে—তিনি বাসার বাইরে রয়েছেন এবং ফিরে এসে বিষয়টি দেখবেন।আরো পড়ুন , সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া মাদকমুক্ত সমাজ সম্ভব নয়: ডিএসসিসি প্রশাসকএই রহস্যময় উত্তরই তদন্তকে নতুন দিকে নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, হত্যার পর শেলীর মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায় ঘাতক এবং সেই ফোন থেকেই কয়েক দিন ধরে চ্যাট চালানো হয়।তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ফোনটির অবস্থান ছিল পল্লবীর একটি আবাসিক এলাকায়—যেখানে অভিযুক্ত মামুনের বাসা।এছাড়া, ঘটনাস্থলে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর প্রমাণও পাওয়া গেছে, যা হত্যার আলামত নষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে পুলিশ।পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার জানিয়েছেন, মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। পুরো ঘটনার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।