দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

প্রবাসীর লাশ খণ্ডিতের ঘটনায় আদালতে হেলেনার জবানবন্দি

রাজধানীর মুগদায় সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়াকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করার মামলায় গ্রেপ্তার হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় তার কিশোরী মেয়ে হালিমা আক্তারকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আরও পড়ুন, সিসা লাউঞ্জ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ না মানায় ডিএমপি কমিশনারকে তলবের আবেদনমঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হেলেনা বেগমকে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার উপপরিদর্শক এনামুল হক মিঠু জানান, হেলেনা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় আদালত তার বক্তব্য রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অপর আসামি হালিমা আক্তার অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করা হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আবেদন মঞ্জুর করেন।আরও পড়ুন, মাজার হামলা মামলায় রিমান্ডে ৩ জনএর আগে সোমবার রাজধানীর মান্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মা-মেয়েকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিহত মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি সৌদি আরবে অবস্থানকালে তাসলিমা বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। অভিযোগ রয়েছে, পাঁচ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।আরও পড়ুন, দুদকের আবেদনে হারুন অর রশীদের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশপ্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী মোকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ খণ্ডিত করা হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে মরদেহের অংশ ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে রোববার মুগদার মান্ডা এলাকার একটি ভবনের বেজমেন্ট থেকে অজ্ঞাত হিসেবে পচাগলা ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে প্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রবাসীর লাশ খণ্ডিতের ঘটনায় আদালতে হেলেনার জবানবন্দি