দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মোখা দখলে হুতিরা, বাব আল-মান্দেবে বাড়ল ঝুঁকি

ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার হুতিদের এই দখলের তথ্য জানিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক সূত্র।লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মোখা। এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।ইয়েমেনের চারটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শুধু মোখা নয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হুতিরা হামলা চালাচ্ছে।ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ২৮ মার্চ ইসরায়েলে হামলার মধ্য দিয়ে সরাসরি যুক্ত হয় হুতিরা। এরপর কিছুটা নীরব থাকলেও জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় তারা। সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলা বাড়িয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।বর্তমান পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের নৌপথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব লোহিত সাগরের নৌপথ ব্যবহার করছে।ফলে হরমুজ ও লোহিত সাগর—দুই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।ইতোমধ্যে সরবরাহপথে ব্যাপক ব্যাঘাতের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।ইরান-সমর্থিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিসট্যান্স’ জোটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হুতিরা গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের কথা বলে আসছে। এ কারণে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালিয়েছে।মোখা দখলের ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।

মোখা দখলে হুতিরা, বাব আল-মান্দেবে বাড়ল ঝুঁকি