রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে অনুসন্ধানে জানিয়েছে প্রথম আলো। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৬৬টি মামলা রয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, পুরো ঋণপ্রক্রিয়ার দায় এককভাবে তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে দেশ ছাড়েন আবদুল হাই। গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর সঙ্গে কয়েক দফা টেলিফোনে কথা হয় সংবাদমাধ্যমটির। এসব আলাপে তিনি বেসিক ব্যাংকের অনিয়মের জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন নেতা ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়ী করেন। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ২০০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান আবদুল হাই। ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকটিতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ঋণ বিতরণে অনিয়ম, যথাযথ যাচাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতির তথ্য উঠে আসে।আরও পড়ুন,অক্টোবরে পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪.৩৯ শতাংশএকপর্যায়ে ব্যাংকটিকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে মতিঝিলে একটি ভবন কেনার জন্য ৮১ কোটি টাকার চুক্তি করা হয়। এর মধ্যে ৭৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় ব্যাংকটি এখনো ভবনটির পূর্ণ দখল পায়নি। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আবদুল হাই এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দুদক কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া জানিয়েছেন, ৬৬টি মামলার মধ্যে ৬০টির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছিল। তবে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে সেগুলো ফেরত দিয়েছেন। সংশোধন করে পুনরায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে বেসিক ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারে কাছে স্বল্প সুদে ৫ হাজার কোটি টাকা আমানত চাওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। বেসিক ব্যাংকের অনিয়মের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের অর্থের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।