মোহাম্মদপুরে ১০০ ফুট সড়ক দখলে হকাররা, তিন লেনই বন্ধ
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার দিকে যাওয়া প্রধান সড়কটি এখন ভয়াবহ দখলের শিকার। প্রায় ১০০ ফুট প্রশস্ত এই সড়কের চার লেনের মধ্যে অন্তত তিন লেনই হকারদের দখলে চলে গেছে।ফলে বাকি এক লেন দিয়েই বাস, রিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করছে, যা প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই সড়কটি কার্যত ভাসমান বাজারে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টার পর থেকেই হকাররা সড়ক দখল শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দখলের পরিধিও বাড়ে। দুপুরের মধ্যে দুই সারি এবং বিকেলের দিকে কোথাও কোথাও তিন সারি দোকান বসে যায়। মাছ, সবজি, পোশাকসহ নানা পণ্যের অস্থায়ী ভ্যান ও দোকান ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই করিডরটি কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের শহরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হলেও এখন এটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের নিয়মিত উদ্যোগ থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই।আরও পড়ুন , লালবাগে কিশোর গ্যাংয়ের গুলিতে যুবক আহতএকজন মাছ বিক্রেতা রাসেল জানান, তারা ভ্যান বসিয়ে ব্যবসা করেন এবং দৈনিক চাঁদা দিতে হয়। অন্য বিক্রেতা জয়নাল ও কাউসারও একই ধরনের তথ্য দেন। তবে চাঁদা কারা নেয়, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কিছু বলতে রাজি হননি।স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান হলেও তা স্থায়ী হয় না। দিনের বেলা অভিযান চালানো হলে রাতেই আবার পুরো সড়ক দখল হয়ে যায়।এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে এবং শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অন্যদিকে স্থানীয় পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযান চললেও পুনরায় হকার বসে যাওয়ায় সমস্যা স্থায়ী হচ্ছে। কিছু চাঁদাবাজ চক্রও এর সঙ্গে জড়িত বলে তারা জানিয়েছেন।রাজধানীর মিরপুর, ফার্মগেট, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ করিডরেও একই ধরনের অবৈধ দখলের চিত্র দেখা যাচ্ছে। ফলে পুরো শহরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট, জনদুর্ভোগ এবং বিশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থাপনা।আরও পড়ুন,মোহাম্মদপুরে রিকশায় ফেরার পথে শিক্ষার্থীকে ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাই