দুই দিনে ৬৭০ কোটি টাকা তুললেন ১৪ হাজার গ্রাহক, স্বাভাবিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা দ্বিতীয় দিনেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আমানতের টাকা তুলেছেন। সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনে দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে ১৪ হাজার গ্রাহক মোট ৬৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে উত্তোলনের আবেদনের তুলনায় প্রকৃত অর্থে টাকা তোলার পরিমাণ ছিল অনেক কম।একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত উত্তোলন ঘিরে দ্বিতীয় দিনেও স্বাভাবিক ছিল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম।ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনে দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে ১৪ হাজার গ্রাহক মোট ৬৭০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।অন্যদিকে, এই দুই দিনে ৩৭ হাজার ৬০০ গ্রাহক ২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন। অর্থাৎ আবেদনকারীর তুলনায় বাস্তবে আমানত উত্তোলন করেছেন অপেক্ষাকৃত কমসংখ্যক গ্রাহক।বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে টাকা উত্তোলনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। প্রথম দিন যারা ব্যাংকে আসতে পারেননি, তাদের অনেকে দ্বিতীয় দিনে এসে আমানত তুলেছেন। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক পুরো অর্থ পরিশোধ করেছে বলেও জানান তিনি।সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদন করা গ্রাহকদের তুলনায় খুব কমসংখ্যক গ্রাহকই বাস্তবে আমানত তুলে নিচ্ছেন। আরও পড়ুন, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৭.৬৭%, বাড়ছে নতুন বাজারের সম্ভাবনাঅনেকেই ব্যাংকের সার্বিক লেনদেন পরিস্থিতি দেখে টাকা না তুলেই ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শাখায় নতুন করে আমানত হিসাব খোলার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। পাঁচ ব্যাংক মিলে বর্তমানে ব্যাংকটির শাখা রয়েছে ৭৬১টি।একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানত থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য মোট ৭৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের বিপরীতে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের দাবি রয়েছে।আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে। পরে বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানো হয়।মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও মালিবাগ এলাকার বিভিন্ন শাখায় দেখা যায়, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় করা টাকা তুলতে সকাল থেকেই ব্যাংকে আসছেন গ্রাহকেরা। অনেকেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় টাকা তুলতে পেরেছেন।দীর্ঘদিন পর আমানতের টাকা হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক গ্রাহক। একই সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিক থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে সন্তোষও দেখা গেছে।