নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সাবেক স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী তানিয়া (৩০) ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত শ্যালক পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মসজিদের পুকুরঘাটে এ ঘটনা ঘটে।নিহত কামাল হোসেন সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের চরমজিদের এরশাদ কলোনির ওহিদুর রহমানের ছেলে। তাঁর সাবেক স্ত্রী তানিয়া একই উপজেলার পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের আমির হোসেনের মেয়ে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুয়া খেলায় আসক্তি নিয়ে কামাল ও তানিয়ার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিচ্ছেদের পরও কামাল সাবেক শ্বশুরবাড়ির এলাকায় গিয়ে তানিয়াকে বিরক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।আরও পড়ুন, মাদারীপুরের কালকিনিতে ৬ অবৈধ ড্রেজার ধ্বংস, একজনের কারাদণ্ডস্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে কামাল ওই এলাকায় গেলে সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে বাড়িতে থাকতে দেননি। এরপর থেকে মেয়েকে দেখতে তিনি সাবেক শ্বশুরবাড়ির পাশের মাদ্রাসা এলাকায় ঘুমাতেন।স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগের রাতে কামাল মাদ্রাসার মাঠে সাবেক শ্বশুর আমির হোসেনকে মারধর করে আহত করেন। এর জেরে রোববার রাতে পুকুরঘাটে ঘুমিয়ে থাকা কামালকে তাঁর সাবেক স্ত্রী তানিয়া, শাশুড়ি করফুলের নেছা ও শ্যালক আকাশ মারধর এবং ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা কীভাবে জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।