ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক উপসাগরীয় দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর কঠোর নজরদারি ও দমন-পীড়ন শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনলাইনে পোস্ট, ভিডিও, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়ার কারণে বহু মানুষ গ্রেপ্তার, বিচার ও নাগরিকত্ব বাতিলের মুখে পড়ছেন।আরও পড়ুন, যুক্তরাজ্যের রিয়েলিটি শো ঘিরে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের অভিযোগবাহরাইনে কর্তৃপক্ষ জানায়, “শত্রুভাবাপন্ন ইরানি কর্মকাণ্ডকে সমর্থন” বা বিদেশি পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এসব ব্যক্তি জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।একই সময়ে কুয়েতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম–সংশ্লিষ্ট মামলায় ব্যাপক ধরপাকড় হয়েছে বলে জানা গেছে। আদালতের রায়ে ১৩৫ জনের মধ্যে ১৭ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, একজনকে ১০ বছরের সাজা এবং ১০৯ জনকে পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন, সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তানঅভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুয়া তথ্য প্রচার, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দুর্বল করার চেষ্টা। এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করছে এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি করছে।আরও পড়ুন, জুন থেকে ইমাম-পুরোহিতদের সরকারি ভাতা বন্ধ পশ্চিমবঙ্গেকুয়েতে নতুন ডিক্রিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন তথ্য প্রকাশে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ে বিশেষ আদালত গঠন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে অনলাইন নজরদারি আরও কঠোর হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশ এখন বড় ধরনের আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।