দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ফরিদপুর পৌর শিশু পার্কে গাছ কাটার অভিযোগে উত্তাল জনমত, তদন্ত দাবি

পাবনার ফরিদপুর উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থিত পৌর শিশু পার্কের ভেতরে দুটি জীবন্ত গাছ কেটে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবারকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে গোপনে পার্কের ভেতরে থাকা বড় দুটি জীবন্ত গাছ কেটে ফেলা হয়। গাছ দুটি দীর্ঘদিন ধরে পার্কে ছায়া প্রদান করে শিশুদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যেই গাছ দুটি কাটা হয়েছে।আরো পড়ুন , আশুলিয়া এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ হিমেল মীরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাবঅভিযোগ রয়েছে, বনওয়ারীনগর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি জহুরুল ইসলাম ওরফে বিজলী খাতুনকে ওই জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ এটি কোনো হাট বা পেরি-ফেরির স্থান নয়; বরং উপজেলা পরিষদের প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন এলাকা, যা শিশু পার্ক হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্বোধন করা হয়েছিল।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একদিকে শিশুদের বিনোদনের জায়গা, অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই পার্কের জায়গা ব্যক্তি বিশেষের নামে বরাদ্দ দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এছাড়া প্রশ্ন উঠেছে, একজন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে কীভাবে উপজেলার জায়গা বরাদ্দ পেলেন এবং তা আইনগতভাবে কতটা বৈধ, এ নিয়েও ফরিদপুর পৌরবাসীর মধ্যে আলোচনা চলছে।বিশেষ করে গাছ কেটে জায়গা দখলের ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম (বিজলী খাতুন) বলেন, উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তাকে জায়গাটি দেওয়া হয়েছে। সেখানে যে গাছ ছিল, তা মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তাই কেটে ফেলা হয়েছে।অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে ইমামা বানিন জানান, উপজেলার সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের বিজলীকে জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরো পড়ুন , পীর হত্যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকারসেখানে থাকা গাছ দুটি অকেজো হয়ে পড়েছিল এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। তাই রেজুলেশনের মাধ্যমে গাছ কাটা হয়েছে।তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি পার্কের জীবন্ত গাছ সমন্বয় কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে কাটা কতটা আইনসিদ্ধ? এ ধরনের গাছ কর্তনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল কি না, তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, গাছ কাটার বৈধতা যাচাই এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে শিশু পার্কের পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচনেরও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফরিদপুর পৌর শিশু পার্কে গাছ কাটার অভিযোগে উত্তাল জনমত, তদন্ত দাবি