বনানীর ২৭ নম্বর রোডের স্পা নিয়ে প্রশ্নের শেষ কোথায়?
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ২৭ নং সড়কের একটি স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ ও আলোচনা চলছে| এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবার আড়ালে অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে| তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক শহিদ বা প্রতিনিধির বক্তব্যও পাওয়া যায়নি| তবে ইতিপূর্বে শহিদ বলেন, আমি পরানো ব্যবসায়ী এবং এই জগতে আমি নতুন নয়|আরো পড়ুন: বনানীতে কোটি টাকার লাভের লোভ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার ৩স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, যারা নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাননি, জানান যে দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাতায়াত লক্ষ্য করা যাচ্ছে| তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন রয়েছে| তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তারা প্রকাশযোগ্য কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি|স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত একজন ব্যক্তি অতীতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন| তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর তিনি ওই ব্যবসা থেকে সরে এসে বর্তমানে বনানীর একটি ভবনের পঞ্চম তলায় স্পা ব্যবসা পরিচালনা করছেন| তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার মতো সরকারি নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি|আরো পড়ুন: বনানীতে অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য তথ্য, উদ্ধার হল শিশুএলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বনানীর মতো কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত প্রতিটি স্পা, ওয়েলনেস সেন্টার ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসার ধরন এবং আইনগত অনুমোদন নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন| তাদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা|আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, স্পা ব্যবসা একটি ˆবধ সেবাখাত| তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অনুমোদনের বাইরে গিয়ে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তা প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ| একই সঙ্গে কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়| তাই প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন|আরো পড়ুন: রায়পুরা কল্যাণ সমিতির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও অভিষেক অনুষ্ঠিতএ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বনানী থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি| ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে|এদিকে সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারের ব্যবস্থাপনা বা মালিকপক্ষের সঙ্গেও বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়| তবে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কিংবা যোগাযোগের জবাব দেননি|আরো পড়ুন: রাজধানীর রামপুরা থানাধীন মালিবাগে হোটেল সবুজ বাংলায় মাসুদের নারী বাণিজ্যস্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত| আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম অযথা ক্ষুণ্ন না হয়|বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে পরিচালিত স্পা, ম্যাসাজ সেন্টার ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন| লাইসেন্স, কর পরিশোধ, কর্মীদের পরিচয়, সিসিটিভি ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা গেলে অভিযোগ ও বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসতে পারে|আরো পড়ুন: গুলশান-বনানীতে অবৈধ স্পা সেন্টার কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টাস্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিটি করপোরেশন এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে| একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করলে জনমনে ˆতরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তিরও অবসান ঘটবে|